কর্ম গুণে বিচার হবে,ধর্ম গুণে নয়
"কর্ম গুণে বিচার হবে, ধর্ম গুণে নয়"—এই উক্তিটি প্রথম শ্রবণে অনেকের কাছে ইসলামবিরোধী মনে হতে পারে, কারণ ইসলাম ধর্ম ও ঈমানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামও কর্ম বা আমলের ভিত্তিতে মানুষের পরিণতি নির্ধারণ করে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই উক্তির বিশ্লেষণে কিছু সূক্ষ্ম দিক বিবেচনায় নেয়া দরকার।
কর্ম গেলো রসা তলে, দিয়া ধর্মের ধোহাই, অধর্ম করেই ঘুরে বেড়ায়।
নিজের পাপের অন্ত নাই, অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়।
দুই চার দিন আমল করে, মনে ভেবে নিয়েছি অনেক বড়, কাঁমেল হয়ে গেছি প্রায়।
অন্য আকিধার লোক দেখলে, কাফের ফতুয়া জাড়ি তাই।
নিজের আমল কবুল হইলো কিনা, ঐইটা নিজের জানা নাই, অন্যের আমল দেখলে পড়ে শিরক-
বেদআত বলে চিল্লাইয়া বেড়ায়।
আমল ইবাদতের গুণে কি, আর পাড় হওয়া যাবেরে ভাই।
কর্ম গুণে বিচার করতেছেন আপেস্বাঁই, দয়া করে না তড়াইলে, পাড়ে যাওয়ার রাস্তা নাই।
পথিক রনি কাঙ্গাল বেশ্যে, শুধু তোমার কৃপায় চায়।
১. ইসলাম কি কেবল ধর্ম পরিচয়কে গুরুত্ব দেয়?
না।
কোরআনে
এবং
হাদীসে
বহুবার
বলা
হয়েছে,
নামমাত্র মুসলিম
হলেই
নাজাত
পাওয়া
যাবে
না।
বরং
প্রকৃত
ঈমান
ও
সৎকর্মই মানুষের মুক্তির উপায়।
কোরআনে বলা হয়েছে: "যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে জান্নাত..."
—সূরা
আল-বাইয়্যিনাহ (৯৮:৭) এখানে
স্পষ্ট
করে
বলা
হয়েছে—"ঈমান + সৎকর্ম"—এই দুইয়ের
সমন্বয়েই সফলতা।
২. কর্মের মূল্যায়ন:
ইসলামে
প্রত্যেক ব্যক্তির আমল
(কর্ম)
হিসাব
করা
হবে।
আল্লাহ
বলেন:
"তোমাদের প্রত্যেককে তার কাজ অনুযায়ী পুরস্কৃত করা হবে।"—সূরা
আল-জালজালাহ (৯৯:৭-৮)
এছাড়া
রাসূল
(সাঃ)
বলেছেন:
"আল্লাহ তোমাদের রূপ-রং, বংশ, ধনী-গরিব দেখে না, বরং তোমাদের অন্তর ও কর্ম দেখে।"—সহীহ মুসলিম
এটা
ইসলামের এক
অসাধারণ সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে
ধর্মীয়
পরিচয়
নয়
বরং
অন্তরের বিশ্বাস ও
কর্মই
মুখ্য।
৩. ধর্ম গুণে বিচার নয় — এর সীমাবদ্ধতা কী?
যদি
“ধর্ম
গুণে
বিচার
হবে
না”
বলতে
বোঝানো
হয়
যে
ধর্ম
বা
ঈমানের
কোনো
মূল্য
নেই,
তবে
সেটা
ইসলামী
দৃষ্টিতে ভুল।
কারণ,
ইসলাম
ধর্মের
ভিত্তিই হলো
ঈমান
বা
বিশ্বাস।
কোরআনে বলা হয়েছে: "যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করে, তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।"—সূরা
আল-ইমরান (৩:৮৫)
অতএব,
ইসলাম
মতে
সৎকর্ম তখনই পূর্ণ মূল্য পায়, যখন তা ঈমানের ভিত্তিতে হয়।
ঈমান
ছাড়া
সৎকর্ম
দুনিয়াতে প্রশংসিত হলেও
আখিরাতে প্রতিদান পাওয়া
যাবে
না।
৪. অমুসলিমদের সৎকর্মের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
অমুসলিমদের অনেকেই
মানবকল্যাণে অসাধারণ ভূমিকা
রাখেন।
ইসলাম
তাদের
এ
কাজের
প্রশংসা করে;
কিন্তু
চূড়ান্ত মুক্তির শর্ত
হিসেবে
ঈমানকে
অপরিহার্য মনে
করে।
কোরআনে বলা হয়েছে: "তাদের দুনিয়ার পুরস্কার দেয়া হবে, কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য কিছুই থাকবে না।"—সূরা হুদ
(১১:১৫-১৬)
৫. উপসংহার: ইসলামি দৃষ্টিতে এই বাক্যের বিশ্লেষণ
"কর্ম গুণে
বিচার
হবে,
ধর্ম
গুণে
নয়"—এই বাক্যকে ইসলামের আলোকে
নিম্নরূপে ব্যাখ্যা করা
যায়:
- ধর্মীয় পরিচয় নয়, আন্তরিক বিশ্বাস ও সৎকর্ম—এই দুটি মিলেই ইসলামে বিচার হবে।
- শুধু মুসলমান পরিচয় যথেষ্ট নয়, কর্মে প্রমাণ দিতে হবে।
- ঈমানবিহীন
সৎকর্ম দুনিয়ায় মূল্যবান হলেও, আখিরাতে মুক্তির জন্য ঈমান অপরিহার্য।
সারকথা: ইসলাম ধর্ম
অনুযায়ী কেবল
"ধর্ম"
নয়,
বরং
"ধর্ম
+ কর্ম"—এই সমন্বয়েই মানুষের নাজাত
নির্ভর
করে।

No comments