মুয়াবিয়া সাহাবী ছিল নাকি মুনাফিক ছিল??
মুয়াবিয়া সাহাবী ছিল নাকি মুনাফিক ছিল??
এই প্রসঙ্গে আলোচনা করার আগে আসুন সাহাবী কাকে বলে জানা যাক। সাহাবী প্রসঙ্গে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা, যারা রাসূল পাক (সাঃ)- কে সরাসরি দেখেছে এবং ইসলাম ধর্ম কবুল করছে তাদেরকে সাহাবী বলে। মূলত এই কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং মনগড়া তথ্য।
সাহাবী তাঁকেই বলা হয়, যিনি সরাসরি রাসূল পাক (সাঃ) কে দেখছে এবং তাঁর প্রতিটি আদেশ নিষেধ মেনে চলছে।
যিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত রাসূল পাক (সাঃ) এবং তার আহলে বায়াতের উপর পূর্ণ আস্হার সহিত দাসত্ব করছেন, মূলত সেই হলো সাহাবী। যিনি রাসূল পাক (সাঃ) এবং তাঁর আহলে বায়াত অর্থাৎ হযরত মাওলা আলী, (আঃ) হযরত মা ফাতেমা (আঃ) এবং মাওলা ইমাম হাসান ও হুসাইন (আঃ)-কে জীবনের চেয়ে বেশী ভালোবাসছেন এবং তাঁদের কদমে নিঃস্বার্থভাবে জীবন উৎসর্গ করছেন তাঁরাই হলো সাহাবী। সাহাবীর সংজ্ঞা মূলত ব্যাপক, লিখতে গেলে একটি বড় আকারের কিতাব হয়ে যাবে।
এবার আসি মূল আলোচনায়.......
রাসূল পাক (সাঃ) এর প্রবলতম ঘোর শত্রু কুরাইশ দলপতি নরপিশাচ আবু সুফিয়ান তার পিতা ছিলেন। যিনি রাসূল পাক (সাঃ) এর বিরুদ্ধে ২৭টি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। রাসূল পাক (সাঃ)- কে হত্যা করতে সর্বক্ষণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতো।
এমন কোনো অপরাধ নাই যে, সে রাসূল পাক (সাঃ) এর সাথে করার চেষ্টা করে নাই। যখন দেখলো রাসূল পাক (সাঃ) এর কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম নয়, তখন দুরভিসন্ধি নিয়ে মক্কা বিজয়ের পর তার সন্তান মাবিয়াকে নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। যাতে মুসলমানদের ভিতরে ঢুকে চরম ক্ষতি করা যায়। এই ধরণের চরম মোনাফেকি উদ্দেশ্য নিয়ে মুসলমানদের ভিতরে ঢুকে পড়ে। রাসূল পাক (সাঃ)এর ঘোষণা অনুযায়ীও মুয়াবিয়া মুনাফেক প্রমানিত হয় যে ব্যক্তি আমার আলীকে গালি দিলো, সে যেন আমাকে গালি দিলো”। (মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা নং ৫৬৫)।
“হে আল্লাহ! আমি যার বন্ধু, আলীও তার বন্ধু। হে আল্লাহ! যে আলীকে ভালবাসবে তুমি তাকে ভালবাসিও, যে আলীর শত্রু হবে তুমি তার শত্রু হইও”। (মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা নং ৫৬৫)।
“মোনাফেক ব্যক্তিই আলীকে ভালবাসবে না এবং মু'মেন ব্যক্তি আলীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না”। (মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা নং ৫৬৪)।
কোরআন পাকে আল্লাহ এরশাদ করেন , "যে ব্যাক্তি জ্ঞাতসারে মোমিন কে হত্যা করে তাহার পুরষ্কার জাহান্নাম, উহাতে সে স্থায়ী হইয়া থাকিবে এবঙ তাহার উপরে আল্লাহর গজব ও লানত, এবং তাহার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত করিয়াছেন।”
এবার কোরআন পাক অনুযায়ী দেখা যাক মুয়াবিয়া কি????
“যে ব্যাক্তি জ্ঞাতসারে মোমিন কে হ*ত্যা করে তাহার পুরষ্কার জাহান্নাম, উহাতে সে স্থায়ী হইয়া থাকিবে এবং তাহার উপরে আল্লাহর গজব ও লানত, এবং তাহার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত করিয়াছেন।” সূরা নিসা, আয়াত ৯৩।
মাওলা আলী (আঃ)এর হ*ত্যাকারী মুলজিম ছিল একজন কোরআনের হাফেজ নামদারী সাহাবী। যেটা ছিল মুয়াবিয়ার কুচক্রের ফল। এখন আমি কি তাকেও সাহাবী হিসাবে মেনে নিয়ে আকাশের নক্ষত্র তুল্য মনে করব? নাকি তাকে বেইমান মোনাফেক সাহাবী মনে করব। অথচ রাসূল পাক (সাঃ) মাওলা আলী (আঃ)সমন্ধে বলছেন, “আমি যার মাওলা আলী তাঁর মাওলা। মুমিন ব্যক্তি আলীর বিদ্বেষ পোষণ করবে না এবং মোনাফেক কখনো আলীকে ভালোবাসবে না। যে ব্যক্তি আলীকে ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসে এবং যে আলীর সাথে শত্রুতা করে, সে আমার সাথে শত্রুতা করলো।” এইরকম আরো অসংখ্য হাদিস রয়েছে।
এবার আপনিই সিদ্ধান্ত নেন কোরআন মানবেন নাকি মুয়াবিয়াকে ভালবেসে যাবেন। কারণ মুয়াবিয়া সিফফিনের যুদ্ধে মাওলা আলীর পক্ষের হাজার হাজার বিখ্যাত সাহাবীদেরকে হত্যা করেছে। তাছাড়া সে এই যুদ্ধে বিখ্যাত আশেকে রাসূল ওয়াইজ করণী (রাঃ) কে হত্যা করে। আর তারা সবাই ছিলেন প্রথম শ্রেণীর মুমিন। এই একটি মাত্র উদাহরণ ছাড়া আরও বহু উদাহরণ আছে যা বর্ননা করলে পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাবে। তবে যারা নর পিশাচ মুয়াবিয়াকে সাহাবী মনে করেন তাদের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন।
সঠিক যুক্তিসঙ্গত উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
যারা নরপিশাচ মুয়াবিয়াকে সাহাবী মনে করেন, তাদের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন।
১/ মুয়াবিয়া কেনো মাওলা আলী (আঃ)এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?
২/ মুয়াবিয়া কেনো ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম হাসান (আঃ)এর সাথে যুদ্ধ করেছিল?
৩/ মুয়াবিয়া কেনো নরপিশাচ কাফের এজিদকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের খলিফা নিযুক্ত করলো?
৪/ মুয়াবিয়া কেনো খারেজিদের দলভুক্ত করল।
আর এই খারেজিদের নিয়ে মুয়াবিয়া মাওলা আলী (আঃ)এর এবং ইমাম হাসান (আঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল?
৫/ মুয়াবিয়া কেনো সিফফিনের যুদ্ধে মাওলা আলী (আঃ)এর পক্ষের শত শত নিরীহ নিষ্পাপ বিখ্যাত সাহাবীদের হ*ত্যা করলো? আর এই হত্যার দায়ভার কে নিবে?
৬/ মুয়াবিয়া কেনো মাওলা আলী (আঃ)এর ওফাতের পর মাওলা ইমাম হাসান (আঃ) কে হটিয়ে নিজে কেন মুসলিম জাহানের খলিফা হলো।
মাবিয়া কি মাওলা ইমাম হাসান (আঃ)এর চেয়ে বেশি যোগ্য ছিল?
৭/ মাবিয়া কেনো ইমাম হাসান (আঃ)এর সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে ইমাম হুসাইন (আঃ)এর পরিবর্তে নিজ পুত্র কাফের এজিদকে মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত করল।
তাহলে এজিদ কি ইমাম হুসাইন (আঃ)এর চেয়েও বেশি যোগ্য ছিল?
৮/ মুয়াবিয়া কেন সিফফিন যুদ্ধের মাধ্যমে বিখ্যাত আশেকে রাসূল হযরত ওয়াইস করণী (রাঃ) কে হত্যা করলো?
৯/ মুয়াবিয়া কেনো রাসূল পাক (সাঃ) এর নাম বাদ দিয়ে, তার দাদা মূর্তি পূজারী উমাইয়ার নামে উমাইয়া মুসলিম খিলাফত চালু করলো?
১০/ মুয়াবিয়া জোর করে মুসলিম খলিফা হওয়ার পর জুমার দিন খুৎবায় মাওলা আলী (আঃ)কে গালাগালি করার প্রথা প্রচলিত কেনো করলো?
.jpg)
No comments