হুরের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে নিজের নফসের ভিতর।
হুরের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে নিজের নফসের ভিতর।
হুর আরবী
শব্দ।এর
অর্থ অপ্সরা,
পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি।
আভিধানিক অর্থে
চক্ষুর সাদা
অংশ দুধের
ন্যায় সাদা
এবং কালো
অংশ কুচকুচে
কালো, এরুপ
অতিসুন্দরী রমণীকে
বুঝায়।প্রচলিত
ধারণামতে হুর
বলতে বেহেশতবাসীর
জন্য নির্ধারিত
সুন্দরী রমণীকে
বুঝানো হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা
পবিত্র কুরআনে
ঘোষণায় বলেছেন,
"সেখানে
তাদের (স্বর্গ-বাসীদের
) জন্য থাকবে
আনতনয়না হুর।
যা সযত্নে
রক্ষিত মুক্তার
মতো, তাদের
কর্মের পুরস্কার
স্বরুপ।"(সূরা আল
ওয়াকিয়াহ,আয়াত
নং ২২-২৪
)।
"বিশেষভাবে
আমি ওদের
সৃষ্টি করেছি।ওদের
করেছি চিরকুমারী,
চিত্তাকর্ষক ও
সমবয়স্কা। ডান
পাশের সঙ্গীদের
জন্য।"
(সূরা
আল ওয়াকিয়াহ,
আয়াত নং
৩৫-৩৮
)।
রাসূলে পাক
(সাঃ) বলেনঃ "তাদের
(বেহেশতবাসী) করাঘাতের
মৃদু শব্দ
শুনে হুরগণ
অনুভব করতে
পারবে
যে, তাদের
প্রতিক্ষীত সঙ্গীদের
আগমন ঘটেছে।
অতএব, তখনই
তারা স্বীয়
সঙ্গীর আগমনে
আনন্দিত হয়ে
বিদ্যুৎবেগে ছুটে
গিয়ে নিজ
নিজ সঙ্গীকে
আলিঙ্গন করবে
এবং তাকে
ভিতরে নিয়ে
আসবে। আর
বলতে থাকবে,
ওগো প্রিয়তম!
তুমি আমার
পরম বন্ধু,
আমি তোমাতেই
সন্তুষ্ট ও
পরিতুষ্ট।আর
আমি কখনো
তোমার প্রতি
অসন্তুষ্ট হবো
না।" (দাকায়েকুল
আখবার, পৃষ্ঠা
নং ১৮৫
)।
পবিত্র কুরআন
ও হাদিসের
বর্ণনার পাশাপাশি
তাসাউফের সাধনার
মাধ্যমে ব্যক্তি
জীবনেও হুরের
সাথে অপূর্ব
মিল খুঁজে
পাই।হুর
বলতে মানুষের
পরিশুদ্ধ নফসকে
বুঝায়। সাধক
সাধনার মাধ্যমে
নিজের নফসকে
পরিশুদ্ধ করতে
পারলে তিনি
নফসকে নিজের
মধ্যে অনিন্দ্য
সুন্দর রুপসী
নারীরুপে দর্শন
করে থাকেন।
এই নফস
যখন কু-রিপুমুক্ত
হয়ে রুহের
মিলন লাভ
করে তখন
সে রুহের
কাছে আত্মসমর্পণ
করে এবং
তাকে বন্ধু
ও অভিভাবক
হিসাবে গ্রহণ
করে, রুহের
নির্দেশে পরিচালিত
হয় এবং
সর্বদা তাঁর
উপর সন্তুষ্ট
থাকে। আর
তাকে বলে,
"হে আমার
পরম সত্তা!
তুমি আমাকে
যেভাবে খুশি
পরিচালিত করো।
আমি কখনো
তোমার অবাধ্য
হবো না।"
অর্থাৎ তোমার
নির্দেশ অমান্য
করবো না।
এই পরিশুদ্ধ
নফসকে সঙ্গী
হিসেবে পাওয়া
পরমাত্মার জন্য
পরম শান্তিময়।
নফসের কারণেই
মানুষের মর্যাদা। এই নফসের
ভাল কর্মের
কারণে মানুষ
সাধনা করে
ফানাফিল্লাহয় পৌঁছে
আল্লাহতে বিলীন
হতে সক্ষম
হয়, আবার
এই নফসের
কু-কর্মের
কারণেই মানুষ
ধ্বংস হয়ে
যায়। নফস
পরিশুদ্ধ করতে
সক্ষম ব্যক্তি
আল্লাহর প্রিয়
বন্ধুতে পরিণত
হন। অপরদিকে
এই নফস
পরিশুদ্ধ না
হলে সে
ব্যক্তি হয়
চির
অভিশপ্ত।
মোটকথা - নফসের
উন্নতি ও
অবনতির উপরেই
মানুষের আত্মিক
উন্নতি ও
অবনতি নির্ভর
করে। সুতরাং,
জীবাত্মা সম্পূর্ণরুপে
কলুষমুক্ত হয়ে
পরমাত্মার অধীন
হলে সাধকের
অন্তরে যে
অনাবিল শান্তি
লাভ হয়
এবং পরিণামে
তিনি উচ্চ
মর্যাদার অধিকারী
হন।
ইহাই বেহেশতে
হুর লাভ
করার রহস্য।
কিতাবঃ আল্লাহ কোন পথে।
.png)
No comments