নামাজে অন্য যেকোনো সুরা পড়ার আগে সুরা ফাতিহা পড়তে হয়
হাদীস দ্বারা প্রমাণ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "جاء رجل فدخل المسجد، فصلى، ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: ارجع فصل فإنك لم تصلّ..." অর্থ: "এক ব্যক্তি এসে নামাজ পড়লেন, তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সালাম দিলেন। নবী (সা.) বললেন: 'তুমি আবার নামাজ পড়, কারণ তুমি নামাজ করোনি।'"
পরে তাকে সঠিকভাবে নামাজ পড়তে শিখিয়ে দেন, যেখানে ফাতিহা পড়ার গুরুত্ব উল্লেখ করেন। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
আরেকটি স্পষ্ট হাদীস: "لا صلاةَ لِمَنْ لمْ يَقرَأْ بِفاتِحَةِ الكِتابِ" “লা সালাতা লিমান লাম ইয়াকরা বিফাতিহাতিল কিতাব” “যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পড়েনি, তার নামাজ নেই।”(সহিহ বুখারি, হাদীস: ৭৫৬)
সাহীহ হাদীস থেকে জানা যায়, যে ব্যক্তি নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার নামাজ বাতিল হয় বা আদায় হয় না। রাসুল (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পড়েনি, তার সালাত নেই।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৯৪)
ইমামের পিছনে নামাজে ফাতিহা পড়ার বিধান (সংক্ষেপে):
জোরে পড়া নামাজে (যেমন: ফজর, মাগরিব, এশা):
– ইমাম পড়লে, অনুসরণকারী চুপ থাকলেও অনেক আলেম বৈধ বলেন
– তবে ফাতিহা না পড়লে অধিকাংশ আলেম নামাজ অগ্রহণযোগ্য বলেন
চুপে পড়া নামাজে (যেমন: যোহর, আসর):
– অবশ্যই অনুসরণকারীকে নিজে নিজে পড়তে হবে
হানাফি, শাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবগুলোর মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে — তবে সর্বোচ্চ সাবধানতা হচ্ছে ফাতিহা নিজেই পাঠ করা।
শিশু, নতুন মুসল্লি বা মুখস্থ না জানা ব্যক্তির ক্ষেত্রে:
যারা এখনো সুরা ফাতিহা পুরো মুখস্থ করতে পারেনি, তারা নামাজে অন্যান্য দোয়া, আয়াত বা প্রশংসাসূচক বাক্য (যেমন "সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ") পড়তে পারেন — যতক্ষণ না পুরো ফাতিহা শিখে নেয়।
সুরা ফাতিহা হলো নামাজের প্রাণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি না পড়ে নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে দাঁড়িয়ে কিছু না বলার মতো — যা নামাজের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করে দেয়। তাই এটি সঠিকভাবে মুখস্থ ও হৃদয় দিয়ে পড়া একান্ত জরুরি। সুরাটির পঞ্চম আয়াতে বলা হচ্ছে, তুমি আমাদের সরল পথ দেখাও। এর পরেই কথাটি আরেকটু বিশদ করে পর পর দুই আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ যাঁদের পরম অনুগ্রহ করেছেন, তাঁদেরকে দেখানো পথটিই হলো এ সরল পথ। কারা আল্লাহর এই অনুগ্রহ পেয়েছেন? যাঁরা পথভ্রষ্ট হননি। এ জন্য তাঁরা আল্লাহর ক্রোধেরও শিকার হননি।

No comments