Header Ads

মাওলা আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ) সম্পর্কে ৮০ টি বিরল হাদিস

 


মাওলা আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ) ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর চাচাতো ভাই, জামাতা এবং চতুর্থ খলিফা ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ ইসলামী জ্ঞানের অমূল্য সম্পদ।বাংলা ভাষায় হযরত আলী (রাঃ) বর্ণিত হাদিসসমূহের একটি বিশাল সংগ্রহ পাওয়া যায় HadithBD.com-এ। এই সাইটে তাঁর বর্ণিত মোট ১০৯৯টি হাদিস সংকলিত হয়েছে। এই হাদিসগুলো বিভিন্ন বিষয়ে যেমন ইবাদত, আখলাক, জ্ঞান অর্জন, ন্যায়বিচার ইত্যাদি সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করে।

. মুমিনদের আমলনামার শিরোনাম রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  মুমিনের আমলনামার শিরোনাম হলো আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসা(আল মানাকিবইবনে মাগাযেলী: ২৪৩/২৯০,কানযুল উম্মাল ১১:৬০১/৩২৯০০,তারীখে বাগদাদ : :৪১০)

. আরবের সরদার রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমি আদম সন্তানদের সরদার আর আলী আরবদের সরদার। (আল মুজামুল আওসাত-তাবারানী :২৭৯/১৪৯১,ইমাম আলী (.) (অনুবাদ)- ইবনে আসাকির :২৬২/৭৮৯,কানযুল উম্মাল-১১-১৮/৩৩০০৬)

. হিকমতের দরজা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমি হিকমতের গৃহ আর আলী তার দরজা। (সুনানে তিরমিযী :৬৩৭/৩৭২৩,হিল্লিয়াতুল আউলিয়া :৬৪,আল জামিউস্ সাগীর :৪১৫/২৭০৪)

. জ্ঞানের নগরীর দরজা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমি সমস্ত জ্ঞানের নগরী আর আলী তার তোরণ। কাজেই যে এই নগরীতে প্রবেশ করবে তাকে তোরণ বা দ্বারের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। (আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২৬-১২৭,জামেউল উসুল :৪৭৩/৬৪৮৯,উসুদুল গবাহ্ :২২,তারীখে বাগদাদ ১১:৪৯-৫০,আল বেদায়াহ্ ওয়ান নেহায়া :৩৭২,আল জামেউস্ সাগীর :৪১৫/২৭০৫)

. উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমার পরে আলী হলো আমার উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী। (কানযুল উম্মাল ১১:৬১৪/৩২৯৭৭,আল ফেরদৌস :৩৭০/১৪৯১)

. মহানবী (সা.)-এর ভাই রাসূল আল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ তুমি দুনিয়া এবং পরকালে আমার ভাই। (সুনানে তিরমিযী :৬৩৬/৩৭২০,আর রিয়াদুন নাদরাহ :১২৪)

. রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর মনোনীত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আর তুমি হে আলী! তুমি আমার মনোনীত এবং আমার আমানতদার(খাসায়েসে নাসায়ী : ১৯,মাজমাউয যাওয়ায়েদ :১৫৬)

. মহানবী (সা.)-এর স্থলাভিষিক্ত হুজুর (সা.) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ জেনে রেখো যে,সে তোমাদের মাঝে আমার ভাই,উত্তরসূরি এবং স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে। (তারীখে তাবারী :২১৭,আল কামিল ফিত্ তারীখ :৬৪,মাআলিমুত্ তানযীল :২৭৮)

. মুমিনদের অভিভাবক রাসূল আল্লাহ্ (সা.) বলেছেনঃ নিশ্চয় আলী আমার পরে তোমাদের অভিভাবক। (কানযুল উম্মাল ১১:৬১২/৩২৯৬৩,আল ফেরদৌস :২৯২/৮৫২৮)

১০. বিচারের সিংহাসনে রাসূল আল্লাহ্ (সা.) বলেছেনঃ  আলী আমার উম্মতের মাঝে সর্বাপেক্ষা বিচক্ষণ বিচারক (আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৬৭,মানাকিবে খারেযমী ৩০,যাখায়িরুল উকবা ৮৩)

১১. উম্মতের জন্য হুজ্জাত বা দলিল রাসূল আল্লাহ্ (সা.) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন আমি এবং আলী আমার অনুসারীদের জন্য হুজ্জাত (দলিল) এবং পথপ্রদর্শনকারী। (তারীখে বাগদাদ :৮৮)

১২. মহানবী (সা.)-এর একই বংশধারা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমি আর আলী একই বৃক্ষ থেকে,আর অন্যেরা (মানুষ) বিভিন্ন বৃক্ষ থেকে(আল মানাকিবইবনে মাগাযেলী :৪০০/৫৩,কানযুল উম্মাল ১১:৬০৮/ ৩২৯৪৩,আল ফেরদৌস : ৪৪/১০৯,মাজমাউয যাওয়ায়েদ :১০০)

১৩. উম্মতের হেদায়াতকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমি হলাম সাবধানকারী। আর হে আলী! তোমার মাধ্যমে পথ অন্বেষণকারীরা পথ খুঁজে পাবে(তাফসীরে তাবারী ১৩:৭২,ইমাম আলী (.) (অনুবাদ)- ইবনে আসাকির :৪১৭/৯২৩)

১৪. জাতির পথ-প্রদর্শক রাসূল আল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ আমার পরে আমার উম্মত যে বিষয়ে মতবিরোধ করবে তুমি তার সমাধান দান করবে। (আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২২,কানযুল উম্মাল ১১:৬১৫/৩২৯৮৩,আল ফেরদৌস :৩৩২/৮৩৪৯,হিল্লিয়াতুল আউলিয়া :৬৪)

১৫. মহানবী (সা.)-এর থেকে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ তুমি আমা থেকে আর আমি তোমা থেকে। (সহীহ বুখারী :২২,:৮৭,সুনানে তিরমিযী :৬৩৫/৩৭১৬,মাসাবিহুস সুন্নাহ :১৭২/৪৭৬৫ ১৮৬/১০৪৮,তারীখে বাগদাদ :১৪০)

১৬. মুমিনদের কর্তৃত্বের অধিকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ আমার পরে তুমি প্রত্যেক মুমিন নর নারীর ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী(আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৩৪,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১২:৭৮/১২৫৯৩)

১৭. আদর্শের পথে শহীদ রাসূল আল্লাহ (সা.) ইমাম আলীকে বলেনঃ তুমি আমার পন্থায় জীবন যাপন করবে,আর আমার আদর্শের পথেই শাহাদাত বরণ করবে। (কানযুল উম্মাল ১১:৬১৭/৩২৯৯৭,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :/১৪২)

১৮. রাসূল আল্লাহ (সা.)-এর প্রাণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ নিশ্চয় আলী আমা থেকে আর আমি আলী থেকে। আর সে আমার পরে সকল মুমিনের নেতা(খাসায়েসে নেসায়ী :২৩,মুসনাদে আহমাদ :৪৩৮,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১৮: ১২৮/২৬৫,হিল্লীয়াতুল আউলিয়া :২৯৬)

১৯. মহানবী (সা.)-এর হারুন রাসূল আল্লাহ (সা.) ইমাম আলী (.) কে বলেনঃ আমার নিকট তুমি মুসার কাছে হারুনের ন্যায়। শুধু আমার পরে কোনো নবী নেই(সুনানে তিরমিযী :৬৪১/৩৭৩০,মাসাবিহুস্ সুন্নাহ :১৭০/৪৭৬২,সহীহ মুসলিম :৪৪/৩০)

২০. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে আলী! সুসংবাদ তোমার ওপর। তোমার জীবন আমার সাথে আর তোমার মরণও আমার সাথে(ইমাম আলী (.)-ইবনে আসাকির :৪৩৫,৯৪৭,মাজমাউয যাওয়াযেদ :১১২,কানযুল উম্মাল ১৩: ১৪৪/৩৬৪৫৩)

২১. সর্বপ্রথম নামাযী  রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ সর্বপ্রথম আমার সাথে যে নামায পড়েছে সে হলো আলী(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৬/৩২৯৯২,আল ফেরদৌস :২৭/৩৯)

২২. শ্রেষ্ঠতম পুরুষ রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী ইবনে আবি তালিব তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম পুরুষ(তারীখে বাগদাদ :৩৯২,মুন্তাখাবু কানযুল উম্মাল :৯৩)

২৩. উম্মতের পিতা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  মুসলমানদের ওপর আলীর অধিকার,সন্তানের ওপর পিতার অধিকারের ন্যায়(আর রিয়াদুন্ নাদরাহ :১৩০,ইমাম আলীইবনে আসাকির :২৭২/৭৯৮-৭৯৯)

২৪. ইবাদতের সারসত্য রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেন, আলীকে স্মরণ করা ইবাদততুল্য(কানযুল উম্মাল ১১,৬০১/৩২৮৯৪,আল ফেরদৌস :২৪৪/৩১৫১,ওসীলাতুল মুতাআব্বেদীন : আল কাসাম :১৬৮)

২৫. মজলিসের সৌন্দর্য রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  তোমাদের মজলিসগুলোকে আলীর নাম উচ্চারণের মাধ্যমে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো(আল মানাকিবইবনুল মাগাযেলী : ২১১/২৫৫)

২৬. সর্বদা সত্যের সাথে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  আল্লাহ আলীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন! হে আল্লাহ! আলী যেখানেই আছে সত্যকে তার সাথে ঘোরাও। (আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২৪,সুনানে তিরমিযী :৬৩৩/৩৭১৪,ইমাম আলী (.)– ইবনে আসাকির,:১৫১/১১৬৯-১১৭০)

২৭. রাসূলুললাহ (সা.)-এর গোপন রহস্যের আধার রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী আমার গোপন রহস্যকথার একমাত্র আধার(আল ফেরদৌস :৪০৩/৩৭৯৩,আল ইমাম আলী (.)– ইবনে আসাকির :৩১১/৮২২)

২৮. রাসূল আল্লাহ (সা.)-এর জ্ঞানের ভাণ্ডার রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  আলী আমার জ্ঞানের ভাণ্ডার(শারহে নাহজুল বালাগাইবনে আবিল হাদীদ :১৬৫)

২৯. সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী সৃষ্টিকুলের সেরা(আল ইমাম আলী (.)– ইবনে আসাকির :৪৪৩/৯৫৯,মানাকিবে খারেযমী : ৬২)

৩০. মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ,যে তা মানবে না সে নিঃসন্দেহে কাফের(সিয়ারু লামুন নুবালা :২৫০,ইমাম আলী (.)-ইবনে আসাকির :৪৪৪/৯৬২-৯৬৬,তারীখে বাগদাদ :৪২১)

৩১. জ্ঞানের আধার রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী আমার জ্ঞানের আধার(আল জামেউস্ সাগীর :১৭৭,শারহে নাহজুল বালাগাইবনে আবিল হাদীদ :১৬৫)

৩২. সর্বদা কুরআনের সাথে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী কুরআনের সাথে আর কুরআন আলীর সাথে(আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২৪,কানযুল উম্মাল ১১:৬০৩/৩২৯১২)

৩৩. রাসূল আল্লাহ (সা.)-এর নিকটে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  আমার নিকটে আলী আমার শরীরে যুক্ত আমার মাথার ন্যায়(তারীখে বাগদাদ :১২,কানযুল উম্মাল ১১:৬০৩/৩২৯১৪)

৩৪. আল্লাহর নিকটে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমার নিকটে আলীর মর্যাদা হলো যেমন আমার প্রতিপালকের নিকটে আমার মর্যাদা(আস সাওয়ায়িকুল মুহরিকা :১৭৭,যাখায়িরুল উক্বা : ৬৪)

৩৫. কেয়ামতের দিন বিজয়ী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী এবং তাঁর অনুসারীরা নিঃসন্দেহে কেয়ামতের দিন বিজয়ী(আল ফেরদৌস :৬১/৪১৭২,ওয়াসীলাতুল মুতাআব্বেদীন :,আল কিসম :১৭০)

৩৬. বেহেশতের তারকা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী বেহেশতের মধ্যে দুনিয়াবাসীর জন্য ভোরের তারকার ন্যায় উজ্জ্বল(আল ফেরদৌস :৬৩/৪১৭৮,কানযুল উম্মাল ১১:৬০৪/৩২৯১৭)

৩৭. তাকে কষ্ট দিও না রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আলীকে কষ্ট দেয় সে আমাকে কষ্ট দেয়(মুসনাদে আহমাদ :৪৮৩,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২২,দালায়িলুন নব্যুওয়াত :৩৯৫,আল ইহ্সান- ইবনে হাববান :৩৯/৬৮৮৪)

৩৮. আল্লাহর অস্তিত্বে মিশে আছে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  তোমরা আলীকে গালমন্দ করো না। সে আল্লাহর সত্তায় মিশে গেছে্(আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১৯:১৪৮/৩২৪,হিল্লিয়াতুল আউলিয়া :৬৮,কানযুল উম্মাল ১১:৬২১/৩৩০১৭)

৩৯. মুনাফিকরা তাঁকে ভালোবাসে না রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ মুনাফিকরা আলীকে ভালোবাসে না,আর মুমিন তাঁকে ঘৃণা করে না(সুনানে তিরমিযী :৬৩৫/৩৭১৭,আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৮৯)

৪০. রাসূল আল্লাহ (সা.)-এর হক (অধিকার) পূরণকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী আমা থেকে আর আমি আলী থেকে,আমি আর আলী ব্যতীত কেউই আমার (রেসালাতের) অধিকার পূরণ করেনি(মাসাবিহুস সুন্নাহ :১৭২/৪৭৬৮,সুনানে তিরমিযী :৬৩৬/৩৭১৯,মুসনাদে আহমাদ :১৬৪)

৪১. মুসলমানদের সরদার রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী মুসলমানদের সরদার,পরহেযগারদের নেতা এবং সফলকামদের পথ প্রদর্শক(আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৩৮,আল মানাকিব-ইবনুল মাগাযেলী ১০৪/১৪৬)

৪২. নাজাত দানকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলীর প্রতি ভালোবাসা আগুন থেকে মুক্তির কারণ(আল ফেরদৌস :১৪২/২৭২৩)

৪৩. ঈমানে সর্বাপেক্ষা অবিচল রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী ঈমানে সর্বাপেক্ষা দৃঢ়পদ,উম্মতের মধ্যে হক বাতিলে পার্থক্যকারী আর মুমিনদের কর্তা(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৬/৩২৯৯০,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী :২৬৯/৬১৮৪)

৪৪. তাঁকে অভিসম্পাত করো না রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আলীকে গালমন্দ করে সে যেন আমাকেই গালি দিল(মুখতাসারু তারীখে দামেস্কইবনে মাঞ্জুর ১৭:৩৬৬,ফাযায়েলুস সাহাবা :৫৯৪/১০১১,খাসায়েসে নাসায়ী :২৪,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২১,মানাকিবে খারেযমী : ৮২)

৪৫. আল্লাহর রাস্তায় কঠোরতা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে লোকসকল! আলীর বিরুদ্ধে নালিশ করতে যেও না। সে আল্লাহর কারণে অথবা তাঁর সন্তুষ্টির জন্যেই কঠোর হয়(মুসনাদে আহমাদ :৮৬,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৩৪)

৪৬. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নজির রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ এমন কোনো নবী নেই যার উম্মতের মধ্যে তাঁর দৃষ্টান্ত কেউ ছিল না। আর আমার দৃষ্টান্ত হলো আলী ইবনে আবি তালিব(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১২০,যাখায়েরুল উকবা: ৬৪)

৪৭. পাপ ধ্বংসকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসা পাপসমূহকে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে(আর রিয়াদুন্ নাদরাহ : ১৯০,কানযুল উম্মাল ১১:৬২১/৩৩০২১,আল ফেরদৌস :১৪২/২৭২৩)

৪৮. অন্তরসমূহের কাবা স্বরূপ রাসূল আল্লাহ (সা.) ইমাম আলী (.) কে বলেনঃ তুমি কাবার ন্যায়। সবাই তোমার কাছে আসে কিন্তু তুমি কারো কাছে যাও না(উসুদুল গবাহ ৩১৪৬)

৪৯. তার দিকে তাকাও রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলীর মুখের দিকে তাকানো ইবাদত(আল মানাকিব- ইবনে মাগাযেলী ২০৬/২৪৪-২৪৬ ২০৯/২৪৮-২৪৯ ২১০/২৫২-২৫৩,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৪২,আর রিয়াদুন্ নাদরাহ :১৯৭)

৫০. রাসূল আল্লাহ (সা.)-এর ওয়াসী রাসূল আল্লাহ (সা.) হযরত আলীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ  হলো আমার ভাই,আর আমার পরে আমার ওয়াসী এবং খলীফা। তার নির্দেশের প্রতি কর্ণপাত করো এবং তার আনুগত্য করো(তারীখে তাবারী :৩৩১,মাআলিমুত তানযীল :২৭৯,আল কামিল ফিত তারীখ :৬৩,শারহে নাহজুল বালাগাইবনে আবিল হাদীদ ১৩:২১১,কানযুল উম্মাল ১৩:১৩১)

৫১. ফেরেশতাকুলের দরূদ রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃকোনো মানুষ মুসলমান হওয়ার সাত বছর পূর্ব থেকেই ফেরেশতারা আমার এবং আলীর ওপর দরূদ পাঠাতো(কানযুল উম্মাল ১১: ৬১৬/৩২৯৮৯,মুখতাসারু তারীখে দামেস্ক -ইবনে মাঞ্জুর ১৭:৩০৫)

৫২. ঈমানের মানদণ্ড রাসূল আল্লাহ (সা.) আলী (.) কে বলেনঃ যদি তুমি না থাকতে তাহলে আমার পরে মুমিনদের শনাক্ত করা যেত না(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৭৩,আল মানাকিব- ইবনুল মাগাযেলী :৭০/১০১,কানযুল উম্মাল ১৩ :১৫২/৩৬৪৭৭)

৫৩. সর্বদা সত্যের সাথে রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী সত্যের সাথে আর সত্য আলীর সাথে,এই দুটো কখনো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না কেয়ামতের দিন হাউজে কাওসারে আমার সাথে মিলিত হবে(তারীখে বাগদাদ ১৪:৩২১,ইমাম আলী (.)– ইবনে আসাকির :১৫৩/১১৭২)

৫৪. তাঁর থেকে পৃথক হয়ো নারাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আলী থেকে পৃথক হয় সে আমা থেকে পৃথক হলো আর যে আমা থেকে পৃথক হলো সে মহান আল্লাহ থেকে পৃথক হয়ে গেল(আল মানাকিব- ইবনে মাগাযেলী ২৪০/২৮৭,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২৪,আল মুজামুল কাবীর- তাবারানী ১২:৩২৩/১৩৫৫৯)

৫৫. মহানবী (সা.)-এর জ্ঞানের দরজা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী আমার জ্ঞানের দরওয়াযা। সে আমার পরে আমার রেসালাতকে আমার উম্মতের জন্যে ব্যাখ্যা করবে। তাকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক,তাকে ঘৃণা করা মুনাফিকের পরিচায়ক এবং তার দিকে তাকানো প্রশান্তির কারণ(কানযুল উম্মাল ১১:৬১৪/৩২৯৮১,আল ফেরদৌস :৬৫/৪১৮১)

৫৬. আল্লাহর গোপন রহস্য ব্যক্তকারী জাবের বলেনঃ তায়েফের দিন রাসূল আল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে কাছে ডাকলেন। তাঁকে একপাশে নিয়ে কানে কানে যুক্তি করলেন। লোকজন বললো,‘‘ তাঁর চাচাতো ভাইয়ের সাথে যুক্তি করা কতো দীর্ঘায়িত হলো!’’

রাসূল আল্লাহ (সা.) বললেনআমি তাঁর সাথে যুক্তি করিনি,বরং আল্লাহ তাঁর সাথে যুক্তি করেছেন(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৭০,সুনানে তিরমিযী :৬৩৯/৩৭২৬,খাসায়েসে নাসায়ী :,ফাযায়েলূস সাহাবা :৫৬০/৯৪৫,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৩০-১৩২)

৫৭. মুমিনদের মাওলা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ! যে আলীকে ভালোবাসে তুমি তাকে ভালোবাস আর যে আলীর সাথে শত্রুতা করে তুমি তার সাথে শত্রুতা করো(কানযুল উম্মাল ১১:৬০৯/৩২৯৫০,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১০৯,মাজমাউয যাওয়ায়েদ :১০৪,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী :১৭৩/৪০৫৩,তিরমিযী :৬৩৩/৩৭১৩,মুসনাদে আহমাদ :৮৪,৮৮,১১৯,১৫২,৩৩১ :২৮১,৩৬৮,৩৭০,৩৭২ :৩৪৭,৩৫৮,৩৬১,৩৬৬,৪১৯)

৫৮. তোমার জন্য সেটাই চাইরাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে আলী! আমি নিজের জন্যে যা পছন্দ করি তোমার জন্য সেটাই পছন্দ করি। আর আমার চোখে যা অপছন্দনীয় তোমার জন্যও সেটা অপছন্দ করি(মুসনাদে আহমাদ :১৪৬,সুনানে তিরমিযী :৭২/২৮২,আল মুনাতাখাবু মিন মুসনাদে আব্দু ইবনে হামীদ :৫২/৬৭)

৫৯. বেহেশত-দোযখের বণ্টনকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে আলী! তুমি (মানুষকে) বেহেশত দোযখের (মধ্যে) বণ্টনকারী। অতঃপর তুমি নিজে বেহেশতের দরওয়াযায় টোকা দিবে এবং হিসাব ছাড়াই প্রবেশ করবে(আল মানাকিব- ইবনুল মাগাযেলী ৬৭/৯৭,আল মানাকিব-খারেযমী : ২০৯,ফারায়িদুস সামতাঈন :৩২৫/২৫৩)

৬০. তোমাকে যারা ভালোবাসে তাদের প্রতি সুসংবাদ রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে আলী! সুসংবাদ তার প্রতি যে তোমাকে ভালোবাসে এবং তোমাকে সত্য বলে জানে। আর দুর্ভাগ্য তাদের প্রতি যারা তোমার সাথে শত্রুতা করে এবং তোমার ব্যাপারে মিথ্যা আরোপ করে(তারীখে বাগদাদ :৭২,ওয়াসীলাতুল মুতাআব্বেদীন :,আল কিসম :১৬১,উসুদুল গবাহ :২৩)

৬১. ওয়াসিগণের মধ্যে সর্বোত্তম রাসূল আল্লাহ (সা.) হযরত ফাতিমাকে বলেনঃ ওয়াসিগণের মধ্যে আমার ওয়াসীই সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকটে তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়তম। আর সে হলো তোমার স্বামী(মাজমাউয যাওয়ায়েদ :১৬৫,যাখায়িরুল উকবা :১৩৬)

৬২. মহানবী (সা.)-এর ভাই সহযোগী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমিও আমার ভাই মুসার মতো বলছি,‘‘ হে খোদা! আমার জন্য আমার পরিবারের মধ্যে থেকে কাউকে সাহায্যকারী হিসেবে নিয়োগ করো। আমার ভাই আলীকে যার দ্বারা আমার শক্তি মজবুত হয় এবং আমাকে সাহায্য করে। যাতে তোমার মহিমা বর্ণনা করতে সক্ষম হই এবং তোমার অধিক ইবাদতে অবশ্য তুমি আমাদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১১৮,ফাযায়িলুস সাহাবা :৬৭৮/১১৫)

৬৩. নিরাপত্তা এবং ঈমান রাসূল আল্লাহ (সা.) হযরত আলী (.) কে বলেনঃ যে ব্যক্তি তোমাকে ভালোবাসবে,নিরাপত্তা ঈমান তাকে আবিষ্ট করবে। আর যে তোমার প্রতি শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে জাহেলিয়াতের মৃত্যু দান করবেন(কানযুল উম্মাল ১১:৬০৭/৩২৯৩৫,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১১:৬৩/১১০৯২)

৬৪. সীরাতুল মুস্তাকীম পার হওয়ার অনুমতি রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যখন কেয়ামত উপস্থিত হবে এবং জাহান্নামের অগ্নিপার্শ্বে পুলসিরাত টাঙ্গানো হবে তখন শুধু কেবল যার সঙ্গে আলী (.)-এর পত্র থাকবে সে ছাড়া কারো তা পার হবার অনুমতি থাকবে না(আল মানাকিব-ইবনুল মাগাযেলী ২৪২,২৮৯,ফারায়িদুস সামতাইন :২২৮,২৮৯)

৬৫. আলী (.)-এর সহচরদের জন্য দোয়া রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আলীকে সাহায্য করে তুমি তাকে সাহায্য করো,যে ব্যক্তি তাকে সম্মান করে তুমি তাকে সম্মান করো আর যে তাকে লাঞ্ছিত করে তুমি তাকে লাঞ্ছিত করো(কানযুল উম্মাল ১১:৬২৩/৩৩০৩৩,আল মুজামুল কাবীরতাবারানী ১৭:৩৯,৮২)

৬৬. আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা আনাস ইবনে মালেক বলেন,রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য মুরগীর গোশত দ্বারা খাবার প্রস্ত্তত করা হয়েছিল। হুজুর (সা.) বললেনঃ হে আল্লাহ! তোমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দাকে পৌঁছে দাও যে আমার সাথে এই মুরগীর গোশত ভক্ষণে অংশ নেবে। এমন সময় আলী এসে পৌঁছলেন এবং হুজুরের দস্তরখানায় বসে পড়লেন(সুনানে তিরমিযী :৬৩৬/৩৭২১,ফাযায়িলুস সাহাবা :৫৬০/৯৪৫,খাসায়েসে নাসায়ী : ,আল মুস্তাদরাকহাকেম :১৩০-১৩২)

৬৭. হেদায়াতের পতাকা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ  বিশ্ব প্রতিপালক আলীর ব্যাপারে আমার সাথে কঠিনভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন। অতঃপর আমাকে বলেছেন: নিশ্চয় আলী হলো হেদায়েতের পতাকা,ঈমানের শীর্ষচূড়া,আমার বন্ধুগণের নেতা আর আমার আনুগত্যকারী সকলের জ্যোতিস্বরূপ(হিল্লিয়াতুল আউলিয়া :৬৬,শারহে নাহজুল বালাগাইবনে আবীল হাদীদ :১৬৮)

৬৮. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তরসূরি রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর ওয়াসী এবং উত্তরসূরি থাকে। আর আমার ওয়াসী এবং উত্তরসূরি হলো আলী(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৩৮,আল ফেরদৌস :৩৩৬/৫০০৯,ইমাম আলী (.)– ইবনে আসাকির : /১০৩০-১০৩১)

৬৯. সত্যিকারের সৌভাগ্য রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ নিশ্চয় সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং সত্যিকারের সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে আলীকে তার জীবদ্দশায় এবং তার মৃত্যুর পরে ভালোবাসে(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৯১,ফাযায়িলুস সাহাবা :৬৫৮/১১২১,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ২২: ৪১৫/১০২৬,মাজমাউয যাওয়ায়েদ :১৩২)

৭০. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহায্যকারী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয় তখন আরশের পায়ায় দেখলাম লেখা রয়েছে‘‘ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই,মুহাম্মদ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ। আমি তাকে আলীকে দ্বারা শক্তিশালী করেছি এবং আলীকে তার সাহায্যকারী করে দিয়েছি(তারীখে বাগদাদ ১১:১৭৩,ওয়াসীলাতুল মুতাআব্বেদীন : আল কিসম :১৬৩,আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৩১,যাখায়েরুল উকবা : ৬৯)

৭১. শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ খন্দকের যুদ্ধে আমর ইবনে আবদুউদ্দের বিরুদ্ধে আলী ইবনে আবি তালিবের যুদ্ধ নিঃসন্দেহে কেয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের সমুদয় কর্মের চাইতে অধিক মূল্যবান(তারীখে বাগদাদ ১৩:১৯,আল মানাকিব-খারেযমী ১০৭/১১২)

৭২. জাহান্নাম সৃষ্টি হতো না যদি রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যদি মানুষ আলী ইবনে আবি তালিবের ভালোবাসায় একমত হতো তাহলে মহান আল্লাহ কখনো জাহান্নামকে সৃষ্টি করতেন না(আল ফেরদৌস :৩৭৩/১৩৫,আল মানাকিব-খারেযমী ৬৭/৩৯,মাকতালুল হুসাইন (.)-খারেযমী :৩৮)

৭৩. সর্বোত্তম মুমিন রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ যদি আসমানসমূহ এবং জমিনকে দাঁড়িপাল্লার একপাশে আর আলীর ঈমানকে আরেক পাশে রাখা হয় তাহলে আলীর ঈমানের পাল্লা ভারী হবে(আর রিয়াদুন নাদরাহ :২০৬,আল ফেরদৌস :৩৬৩/৫১০০,ইমাম আলী (.)– ইবনে আসাকির : ৩৬৪/৮৭১ ৩৬৫/৮৭২,আল মানাকিব-খারেযমী : ৭৭-৭৮)

৭৪. তার গুণাবলীর উপকারিতা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলীর ন্যায় গুণাবলী অর্জনের মতো আর কোনো অর্জন অধিক উপকারী নয়। কারণ,তার অধিকারীকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করে এবং নীচ হীনতা থেকে দূরে রাখে(আর রিয়াদুন নাদরাহ :১৮৯,যাখায়িরুল উকবা :৬১)

৭৫. প্রতিপালকের প্রিয়তম রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ এমন চার ব্যক্তি যারা আল্লাহর কাছে প্রিয় মহান আল্লাহ আমাকে সে চারজনকে ভালোবাসতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হলো,হে রাসূল আল্লাহ (সা.)! তাদের নামগুলো আমাদের জন্য বলুন। তিনি তিন বার বললেন,আলী তাদের মধ্যে(সুনানে তিরমিযী :৬৩৬/৩৭১৮,সুনানে ইবনে মাজাহ :৫৩/১৪৯,মুসনাদে আহমাদ :৩৫১,আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৩০)

৭৬. সর্বপ্রথম মুসলমান রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সবার আগে হাউজে কাওসারে প্রবেশ করবে সেই ব্যক্তি যে সবার আগে ইসলাম গ্রহণ করেছে। আর সে হলো আলী ইবনে আবি তালিব(আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১৩৬,আল ইস্তিয়াব :২৭,২৮,উসুদুল গাবাহ :১৮,তারীখে বাগদাদ :৮১)

৭৭. ফাতেমা (.)-এর জন্য সর্বোত্তম স্বামী রাসূল আল্লাহ (সা.) হযরত ফাতিমাকে বলেনঃ তোমাকে আমার পরিবারের সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছি। সে জ্ঞান-বিদ্যায়,ধৈর্য-সহিষ্ণুতায় ইসলাম গ্রহণে সবাইকে পিছে ফেলে এগিয়ে গেছে(মানাকিবে খারেযমী ৬৩: নাযমু দুরারিস সামতাঈন : ১২৮,কানযুল উম্মাল ১১:৬০৫/৩২৯২৬)

৭৮. সত্যের অগ্রদূত রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ সত্যের অগ্রদূত তিনজন : মুসাকে মেনে নেওয়ার বেলায় ইউশাইবনে নুন,ঈসাকে মেনে নেওয়ার বেলায় ইয়া সীনের মালিক আর মুহাম্মদের সাথে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আলী ইবনে আবি তালিব(আস সাওয়ায়িকুল মুহরিকা ১২৫,মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০২,যাখায়িরুল উকবা :৫৮,আল মুজামুল কাবীর-তাবারানী ১১:৭৭/১১১৫২)

৭৯. সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ প্রকৃত সত্যবাদী তিনজন : আলে ইয়াসীনের মুমিন,আলে ফেরআউনের মুমিন আর আলী ইবনে আবি তালিব,আর সে হলো তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ(কানযুল উম্মাল ;৬০১/৩২৮৯৮,ফাযায়িলুস সাহাবা :৬২৮/১০৭২,আল ফেরদৌস :৪২১/৩৮৬৬)

[উল্লেখ্য,আলে ইয়াসীনের মুমিন হলো হাবীব নায্যার (ইয়াসীন : ২০),আর আলে ফেরআউনের মুমিন হলো হেযকিল (গাফির : ২৮)]

৮০. সতকর্মশীলদের নেতা রাসূল আল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ আলী সতকর্মশীলদের নেতা আর ব্যভিচারীদের হন্তা। যে কেউ তাকে সাহায্য করে সে সাহায্য প্রাপ্ত হয় আর যে ব্যক্তি তাকে ত্যাগ করে সে বিফল হয়(আল মুস্তাদরাক-হাকেম :১২৯,কানযুল উম্মাল ১১:৬০২/৩২৯০৯,আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকা :১২৫,আল ইমাম আলী (.)-ইবনে আসাকির :৪৭৬/১০০৩ ৪৭৮/১০০৫)

হযরত আলী (রাঃ)-এর জীবন ও খিলাফত

হযরত আলী (রাঃ)-এর জীবন, খিলাফত এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর "হযরত আলী (রা) জীবন ও খিলাফত" বইটি পড়তে পারেন।


No comments

Powered by Blogger.