"অতশত বুঝি না - আমি পাক্কা মুসলমান"
আজকাল
অনেক
মানুষ
যখন
দ্বীনের গভীর
বিষয়
জানতে
অনিচ্ছা প্রকাশ
করে,
তখন
বলে:
“অতশত বুঝি না — আমি পাক্কা মুসলমান।” এই
বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত
বোঝাতে
চাওয়া
হয়,
“আমি
ধর্মীয়
বিষয়
নিয়ে
বিশ্লেষণ করতে
চাই
না,
শুধু
বিশ্বাসটাই যথেষ্ট।”
তেনারা এতটাই উদারমনা যে , আল্লাহ নিজেও অবাক বিস্ময় এদের ভন্ডামী দেখতে থাকেন । এতটাই আতেল বাটপার যে , লানত দিতেও কুন্ঠিত হন । গোলাপ এবং ধুতরা - দুটোকেই এক পাত্রে নিয়ে আসেন । সত্য ও মিথ্যাকে একই মানদন্ডে নিয়ে আসেন । কলিযুগে এসব ধ্যাস্টামো বা ভন্ডামী নবীর (সাঃ) আহলে বাইতের (আঃ) ভক্ত , প্রেমিক , মুহিব এবং শীয়া দাবীদার ভন্ডগুলোর মধ্যে বেশী করে প্রতীয়মান হচ্ছে ।
কিন্তু
ইসলামের প্রকৃত
শিক্ষা
কি
তা-ই বলে?
কুরআনের নির্দেশ:
“তোমরা কি মনে করো, আমি তোমাদের
এমনিই ছেড়ে দেব, না জেনে যে তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করে এবং ধৈর্য ধরেছে?” — (সূরা তাওবা, ৯:১৬)
“বল, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?” — (সূরা যুমার, ৩৯:৯)
এ
থেকে
বোঝা
যায়,
ইসলামে
জ্ঞান অন্বেষণ, তথ্য যাচাই, ও
বুঝেশুনে আমল করা হলো
আসল
মুসলমানের বৈশিষ্ট্য।
হাদীসের বাণী:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি
এমনভাবে আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলে যা সে জানে না — সে জাহান্নামে যাবে।” — (তিরমিজি)
আরও বলেন: “যে আল্লাহর
রাস্তায় জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”
— (মুসলিম)
“আমি পাক্কা
মুসলমান” — কিন্তু কিসে পাক্কা?
এক ভদ্রলোক বেশ দৃঢ়তার সাথে বললেন যে , অতশত বুঝি না দাদা । আমি হানাফি , শাফেয়ি , মালেকি , হাম্বলি , দেওবন্দী , বেরলি , জামাতি , তাবলিগি , সুফি , পীরালি , উসুলি আখবারী , শীয়া-সুন্নি এইসব আজাইরা ক্যাঁচালে নাই ভাই । কথা একটাই, আমি একজন পাক্কা মুসলমান , ব্যস ।
খুব শান্তস্বরে নীচু গলায় ভদ্রলোককে বললাম , চলুন গরম গরম কফি খাই আর কথা বলি । ভদ্রলোক বললেন , জ্বী মশাই , চলুন । গরম কফির কাপে চুমুক দিয়ে বললাম , এত রাগ করেন কেন , দাদা ? গুটিকতক কথা বলি , কিছুটা চিন্তা করুন , প্লীজ । ভদ্রলোক বললেন , কি আর বলবেন , আচ্ছা বলুন দেখি ! মৃদু প্রশ্ন করলাম , শুধু "মুসলমান"
বলাটাই কি যথেষ্ট ? কফি বেশ ভালই লাগছে । ভদ্রলোকের মেজাজ এখন বেশ ঠান্ডা । সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে দৃঢ়কন্ঠে বললেন , Off
cource , I am a perfect Muslim !
সুরে সুর মিলিয়ে আমিও বলিষ্ঠকন্ঠে আমিও বললাম , নিঃসন্দেহে আপনি একজন মুসলমান । বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই । অনুমতি যদি দেন তাহলে দুটো কথা নিবেদন করতে চাই । ভদ্রলোকের পূর্ন অনুমতি পেয়ে ধীরলয়ে বলতে শুরু করলাম । দুইবাংলা মিলিয়ে প্রায় আটত্রিশ কোটি বাঙ্গালীর বসবাস । এবারে আপনি যদি বলেন যে , আমি শুধুই একজন বাঙ্গালী । প্রশ্ন তো আসবেই যে , পশ্চিমবঙ্গের নাকি বাংলাদেশের বাঙ্গালী ? সবই তো আরব জাতি ? প্রশ্ন তো আসবেই যে , সৌদী আরবের নাকি ইয়েমেনের ? একইভাবে যদি বলেন যে , আমি শুধুই একজন মুসলমান । মনে করিয়ে দিলাম যে , কারবালার দুইপ্রান্তেই অমুসলিম ছিল না !
ভদ্রলোক এবারে বেশ নড়েচড়ে বসলেন । আরেক পেয়ালা কফির ফরমায়েশ দিয়ে সিগারেটে সুখটান দিয়ে কিছুটা বিরক্তির সুরে বললেন যে , কোথাকার জল কোথায় নিয়ে চললেন ? আরও পরিস্কার করে বলেন ! বিনয় কন্ঠে মোলায়েমভাবে বললাম , চটছেন কেন , দাদা ? মন দিয়ে একটু শুনুন ! - তাই বলুন ।
আচ্ছা ধরুন যে , পৃথিবীর যে কোনও মুসলিম বা অমুসলিম ব্যক্তি আপনাকে যদি এরকম প্রশ্ন করে যে, রাসুলের (সাঃ) পরিস্কার আদেশের পরেও যারা খাতা কলম দেয় নাই , তারাও তো মুসলমান ছিলেন ! আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান ?
এরকম অনেকেই মনে করেন:
·
নামাজ-রোজা করলেই ‘পাক্কা’
হওয়া যায়।
·
মাজারে
গিয়ে মানত করলেই ধর্ম
পালন হলো।
· কেবল বিশ্বাস রাখলেই যথেষ্ট, কাজ বা জ্ঞান না থাকলেও চলবে।
কিন্তু
বাস্তবে, সঠিক আকীদা, আমল ও জ্ঞান ছাড়া ইসলামে
‘পাক্কা
মুসলমান’ হওয়া
অসম্ভব।
ইসলাম শুধু বিশ্বাস না — বিশ্বাস + জ্ঞান + কাজ
|
বিষয় |
অনুধাবন ছাড়া হবে? |
|
নামাজ |
না, সঠিক
নিয়ত ও
নিয়ম
জানতেই হবে |
|
রোজা |
না, ভঙ্গের কারণ
ও
শর্ত
জানতেই হবে |
|
ঈমান |
না, তাওহীদ, শিরক
বুঝতে হবে |
|
ইবাদত |
না, হালাল-হারাম বুঝে
করতে
হবে |
উপসংহার:
“অতশত বুঝি
না
— আমি
পাক্কা
মুসলমান” বলাটা
আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া
কিছু
নয়।
বরং,
প্রকৃত
মুসলমানের বৈশিষ্ট্য হলো:
"তারা শোনে, চিন্তা করে এবং সর্বোত্তম অনুসরণ করে।” — (সূরা যুমার, ৩৯:১৮) আসুন, আমরা বুঝে-বুঝে ইসলাম পালন করি — যেন শুধু মুসলমান নামেই নয়, কাজে ও নীতিতেও হই "পাক্কা"।
.jpg)
No comments