Header Ads

মোল্লা-পরতন্ত্র, সাধক পীর মুর্শিদ-খোদাতন্ত্র

 

মানবজাতির আত্মিক সামাজিক উন্নয়নে ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই নেতৃত্ব দুইটি ভিন্ন ধারা অনুসরণ করেএকদিকে রয়েছে তথাকথিত মোল্লাতন্ত্র, যা অনেক সময় ক্ষমতা প্রথার অধীন হয়ে পড়ে পরতন্ত্রে রূপ নেয়; অপরদিকে রয়েছে সাধক-পীর-মুর্শিদের খোদাতন্ত্র, যা সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে সংযোগসাধন আত্মিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়

মোল্লাতন্ত্র: পরতন্ত্রের রূপ

অনেক সময় মোল্লারা ধর্মকে একটি ক্ষমতা প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছেوَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا আমার আয়াতকে অল্প মূল্যে বিক্রি করে দিও না। — (সূরা আল-বাকারা, 2:41)

এই আয়াত সেইসব লোকদের প্রতি ইঙ্গিত করে যারা দুনিয়াবি স্বার্থে ধর্মের ব্যাখ্যা বিকৃত করে। যখন মোল্লাতন্ত্র রাষ্ট্রীয় রাজনীতি বা ক্ষমতার সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা খোদার প্রতিনিধিত্ব না করে পরতন্ত্রের ধারক হয়ে পড়ে

সাধক, পীর, মুর্শিদ: খোদাতন্ত্রের পথে

আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট সাধক, পীর মুর্শিদগণ মানব অন্তরকে আলোর পথে পরিচালিত করেন, তাঁদের পথ হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, তাওয়াক্কুল ইখলাসের পথ এদের কাজ আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলা

কুরআনে বলা হয়েছে: وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ যে আল্লাহতে ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। — (সূরা আত-তাগাবুন, 64:11)

রাসূল (সা.) বলেন: আল্লাহর বন্দাদের মধ্যে এমন লোক আছেন যারা না নবী, না শহীদকিন্তু কিয়ামতের দিনে নবী শহীদরাও তাঁদের মর্যাদায় বিস্মিত হবে। (তিরমিযি)

এরা হচ্ছেন সেই সব আল্লাহপ্রেমিক সাধকগণ, যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের আত্মার উন্নয়নে নিবেদিত

উপসংহার

মোল্লাতন্ত্র অনেক সময় পরাধীনতা ক্ষমতার খেলা হয়ে দাঁড়ায়, যা প্রকৃত ধর্মের চেতনার বিপরীত
খোদাতন্ত্র, অর্থাৎ সাধক-পীর-মুর্শিদদের পথ, হলো আল্লাহর প্রেম আত্মিক পরিশুদ্ধির পথ

আজকের বাস্তবতায়, আমাদের দরকার সেইসব পথপ্রদর্শক, যারা কেবল ফতোয়া নয়, বরং আল্লাহর দিকে অন্তরকে ফেরানোর সৎ প্রচেষ্টা করেন


No comments

Powered by Blogger.