Header Ads

"আত্মা শুদ্ধ না হইলে নিয়ত শুদ্ধ হয় না, আর নিয়ত শুদ্ধ না হইলে কোন ইবাদতই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না।"

তাই সিয়াম সাধনার সর্বপ্রথম সর্বোত্তম শিক্ষাই হইলো নিজের দেহ-মনকে কলুষমুক্ত করা বা স্বীয় আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা যাহার দ্বারা আল্লাহ তা'য়ালার সন্তষ্টি অর্জন করা যায় নৈকট্য লাভের পথে বেগবান হওয়া যায় নিজ নিজ অন্তরের কু-প্রবৃত্তি বা দোষ গুলির প্রতি উদাসীনতাই মানুষকে দিনে দিনে আরও বেশি পাপের পথে ধাবিত করিয়া থাকে

কু-প্রবৃত্তি বা মনের ত্রুটিপূর্ণ দোষসমূহঃ

যথা- আপন স্রষ্টা দয়াময় আল্লাহর প্রতি সর্বদাই স্মরণ ভুলিয়া থাকা, মিথ্যাচার, অহংকার, হিংসা, লোভ-লালসা, পার্থিব বস্তুর প্রতি মোহ-মায়া, অবৈধ যৌনাচার ব্যভিচার, প্রতারণা, গীবত বা পরনিন্দা, প্রতিশোধ পরায়ণতা, গরীব হইয়া পড়িবার ভয়, তকদীরের প্রতি হতাশ হওয়া, মনে বিদ্বেষ ভাব, হিংসা কপটতা পোষণ করা, অন্যের ক্ষতি করিয়া অধিক বড় সম্মানিত হওয়ার আশা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, প্রশংসা লাভের আশা, দুনিয়ার সুখ-শান্তির প্রতি আসক্ত হওয়া, সুখ সম্ভোগের আশায় দীর্ঘজীবি হওয়ার বাসনা, তাকাব্বরী, রিয়া বা ভন্ডামী (লোক দেখানো ইবাদত দান-খয়রাত), রাগ-ক্ষোভ, চতুরতা, অপরের প্রতি মনে মনে হিংসা পোষণ করা, অতি বাসনা, বখিলী বা কৃপণতা, গর্বিত ভাব, অবিনয়ী ভাবে চলাফেরা, ধনী ব্যক্তিকে অধিক সম্মান করা গরীবের প্রতি তাচ্ছিল্যের ভাব দেখানো, ফখর করা বা নিজেকে সেরা ভাবা, বৃথা কাজের চিন্তায় মগ্ন থাকা, অপ্রয়োজনীয় বাজে গল্প করার অভ্যাস, বড়ত্ব প্রশংসা লাভের আশায় অহংকারী বেশ-ভূষায় সজ্জিত হওয়া, ধর্মের কাজে অলসতা দেখানো, নিজের ইবাদতকে বড় মনে করা, পরের দোষ খোঁজা, নিজের আয়েব বা পথভ্রষ্টতার প্রতি খেয়াল না রাখা, দিল হইতে গম বা খোদাকে পাওয়ার চিন্তা দূরীভূত হওয়া, দিল হইতে খোদার ভয় চলিয়া যাওয়া, কোন কাজে সম্মান লোপ পাইলে (ন্যায় বিচার না করিয়া) উহা উদ্ধারের জন্য সাধ্য শক্তি চেষ্টা করা, হক বিচারে শক্তি থাকা সত্বেও দুর্বলতা প্রকাশ করা, দিলে শত্রুতা রাখিয়া কপট বন্ধুত্ব জাহির করা, মানুষের প্রতি ক্ষোভ-বিদ্বেষ এর কারণে সুবিচার হইতে সরিয়া যাওয়া, আল্লাহ পাক যে কোন মুহূর্তে (ঐহিক-পারত্রিক) সমস্ত নেয়ামত-দান-অবদান কাড়িয়া লইতে পারেন ইহার ভয় না থাকা, রহমত ফায়েজ ব্যতীত শুধু নিজের ইবাদতের প্রতি নির্ভর করা, অতিরিক্ত আকাঙ্খা করা, দিল কঠিন হইয়া যাওয়া, কর্কশ ভাষী হওয়া, দুনিয়ার খুশিতে মত্ত থাকা, দুনিয়া ছাড়িতে হইবে বলিয়া দুঃখিত হওয়া, সৃষ্ট পদার্থের প্রতি মোহ বা মহব্বত অতিরিক্ত হওয়া, ভাল-মন্দ বিচার না করিয়া অতি তাড়াতাড়ি কোন কাজ করিয়া ফেলা, লজ্জাবোধ দয়া কম থাকা ইত্যকার সমস্ত মন্দগুলিই সকল পাপ অসৎ কাজের মূল

আর ইহার বিপরীত সৎগুণগুলি ধর্ম অনুসরণ নেক কাজের মূল কাজেই অন্তরের সকল কু-প্রবৃত্তি বা কলুষতা রোগ হইতে নিজেকে মুক্ত করা কুরআনুল কারীমের সুস্পষ্ট নির্দেশ এবং পরলোকদর্শী ওলামাগণের পরামর্শ নির্দেশনা অনুযায়ী ফরজে আইন বা অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য সুতরাং যেই ব্যক্তি নিজের উক্ত দোষগুলি উত্তমরূপে না জানিবে তদনুযায়ী আমল করা হইতে বিরত থাকিবে সে খোদাতা'য়ালার শক্ত গজবে নিপতিত হইয়া আখেরাতে ধ্বংস প্রাপ্ত হইবে

নফ্সের সহিত আবিষ্ট কু-রিপু নামক শয়তানগুলির কুমন্ত্রণার কারণে অন্তরে বিরাজমান সকল কু-প্রবৃত্তি বা দোষগুলি একা একা শতসহস্র চেষ্টা করিয়াও পরিত্যাগ করা কখনোই সম্ভবপর হয় নাইহার জন্যে অত্যাবশ্যক হইলো দয়াময় আল্লাহ পাক কর্তৃক প্রেরিত প্রেমের প্রবাহ "ফায়েজ"

আল্লাহ পাক হইতে আগত নানান প্রকারের ফায়েজ সমূহ নূরনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃএর সিনা মোবারক হইয়া পীরনে পীরগণের জামানার মহান মোজাদ্দেদ ইমামের দিল মোবারক হইয়া নিজ নিজ কামেল মুর্শিদের দিলের নালা হইয়া খাঁটি মুরিদের ক্বলবে আসিয়া পড়ে ফলে মুরিদের ক্বলবে জমাকৃত গুনাহের পাহাড়, গুনাহের জুলমত, গুনাহের হাউসগুলি পাক পবিত্র পরিশুদ্ধ হইতে থাকে

সুতরাং ফায়েজ প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের জন্যেই অত্যাবশ্যক কেননা, ফায়েজ হইলো ধর্মের মেরুদণ্ড সকল ইবাদতের প্রধান ভিত্তি দয়াময় আল্লাহ পাক এর মনোনীত প্রতিনিধি কামেল অলী-মুর্শিদগণের সোহবতে থাকিয়া হাকিকত পূর্ণ ইবাদত-উপাসনা দ্বারা দৈনিক নানান সময়ে আগত নানান রকমের ঐসকল ফায়েজ নিজের ক্বলবে গ্রহন করিতে হয় দয়াময় আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে যেই বিবেক-বুদ্ধি জ্ঞান দান করিয়াছেন, ইনশাআল্লাহ, যথাসময়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উহাদের সঠিক বুঝ নিজের প্রতি ব্যবহার করিতে সর্বদাই সচেষ্ট থাকিব

আলহামদুলিল্লাহ আমিন ইয়া রাহমাতাল্লিল আলামিন ইয়া শাফিয়াল মুজনবিন।।

No comments

Powered by Blogger.