Header Ads

অনুসরণ করার মত ঈগলের ৭ নীতি:

 


অনুসরণ করার মত ঈগলের নীতি:


নীতি- :

ঈগল অনেক উঁচুতে উড়ে এবং কখনোই চড়ুই কিংবা অন্যান্য ছোট পাখিদের সাথে মেশে না, উড়েও না

ঈগল যেই উচ্চতায় উড়ে বেড়ায়, সেই উচ্চতায় অন্য কোন পাখি পৌঁছাতেও পারে না এজন্যেই ঈগল একা ওড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারোর সাথে দল বেঁধে নয়

প্রাপ্য শিক্ষা:

মানুষ হিসাবে জীবনে চলার পথে এমন মানুষগুলোর সাথে চলতে-ফিরতে-মিশতে হয় যারা সমান স্বপ্ন দেখে, যাদের সাথে দৃষ্টিভঙ্গি মিলে, যাদের সাথে থাকলে ব্যক্তিগত উন্নয়ন সম্ভবপর হয়

জীবনে বন্ধুদের প্রভাব অনেক বেশি তাই বন্ধু নির্বাচন করতে হয় বুঝে শুনে সমমনা মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করা শ্রেয়

নীতি- :

ঈগল এর রয়েছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি যার মাধ্যমে সে আকাশে থাকা অবস্থাতেই কিলোমিটার পর্যন্ত দেখতে পায়, তাও একদম স্পষ্ট! ঈগল যখন তার শিকার খোঁজে, সে তার সব ফোকাস সেটার ওপর নিয়ে যায় এবং বেরিয়ে পড়ে শিকারের জন্য যত বাধাই আসুক না কেন, সেটিকে না পাওয়া পর্যন্ত ঈগল কোনক্রমেই তার চোখ সরায় না

প্রাপ্য শিক্ষা:

আশে পাশের সবকিছুর প্রতিই খেয়াল রাখা ভালো৷ তবে পিছু নিতে হয় শুধু একটি লক্ষ্যের সেই লক্ষ্য হতে কোন ভাবেই ফোকাস হারানো চাই না!

নীতি- :

পাখির রাজা ঈগল সর্বদা জীবন্ত প্রাণীকে খাবার হিসেবে খেয়ে থাকে কখনোই কোন মৃত জিনিস তারা ভক্ষণ করে না

প্রাপ্য শিক্ষা:

সব সময় নতুন সংবাদ তথ্যের খোঁজ রাখতে হয় পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলা এবং অন্য মানুষের কথা শুনে নিজের স্বপ্নের পিছু নেওয়া ছেড়ে দিতে হয়না কখনোই

নীতি- :

ঝড় আসলে ঈগল পাখি তা এড়িয়ে না গিয়ে বরং ঝড়ের বেগকেই কাজে লাগিয়ে উঁচুতে উড়ে যায়

প্রাপ্য শিক্ষা:

চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ নয়, সুযোগ হিসাবে দেখতে হয় একে মোকাবিলা না করলে নতুন কিছু কখনোই শেখা হয়না, যেই অবস্থানে থাকা হয় তা হতে কখনোই উত্তরণ করতে পারা যায়না

নীতি- :

একটা মেয়ে ছেলে ঈগল যদি কখনো বন্ধু হতে চায়, মেয়ে ঈগলটি প্রথমেই ছেলে ঈগলটির কমিটমেন্টের পরীক্ষা নিয়ে নেয় কীভাবে?

সাক্ষাৎ হওয়ার পর মেয়ে ঈগলটি মাটিতে নেমে এসে গাছের একটি ডাল তুলে নেয় তার পিছে পিছে ছেলে ঈগলটিও উড়ে যায় মেয়ে ঈগলটি সেই ডাল নিয়ে উপরের দিকে উড়ে যায় এবং একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় যাওয়ার পর গাছের সেই ডালটি নিচে ফেলে দেয় তার পিছু নেওয়া সেই ছেলে ঈগলটি তা দেখে ডালটি ধরার জন্য দ্রুত নিচের দিকে যায় ডালটি সে মেয়ে ঈগলের কাছে ফিরিয়ে আনে

এই কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি কয়েক ঘণ্টা ধরে হতেই থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত মেয়ে ঈগল আশ্বস্ত হয় যে ছেলে ঈগলটি এই ডাল ফিরিয়ে আনার কাজটি আত্মস্থ করতে পেরেছে এটা তার কাছে ছেলে ঈগলটিরপ্রতিজ্ঞাবদ্ধতারপরিচয় তুলে ধরে অর্থাৎ, ইংরেজিতে আমরা যেটাকে বলি Commitment একমাত্রপ্রতিজ্ঞাবদ্ধতারপরিচয় দিতে পারলেই পরে তারা দুজন বন্ধু হতে পারে

প্রাপ্য শিক্ষা:

কাউকে নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে তার Commitment যাচাই করা উচিৎ ব্যক্তিগত হোক আর পেশাগত জীবনেই হোক, যাচাই করে নিতে ভোলা যাবেনা

নীতি- :

ডিম পাড়ার সময় আসলে বাবা মা ঈগল পাহাড়ের এমন একটি জায়গা বেছে নেয় যেখানে কোন শিকারির হামলা করার সুযোগ থাকে না বাসা তৈরির পালা আসলে ছেলে ঈগল এই বাসা নির্মাণের জন্য প্রথমে কিছু কাঁটা বিছায়, তার উপর গাছের ছোট ছোট ডালা, তার উপর আবার কিছু কাঁটা দিয়ে একদম শেষে কিছু নরম ঘাস বিছিয়ে দেয় ছোট্ট আবাসটির নিরাপত্তার জন্য বাইরের দিকে তারা কাঁটা শক্ত ডালা বিছিয়ে রাখে

বাচ্চা ঈগলগুলোর যখন উড়তে শেখার সময় হয়, মা ঈগল তাদেরকে বাইরে ছুঁড়ে দেয় কিন্তু পড়ে যাওয়ার ভয়ে ছানাগুলো ফিরে আসে মা ঈগল এবার সব নরম ঘাস সরিয়ে ফেলে পুনরায় তাদের বাইরে ছুঁড়ে দেয় আর তাই ছানাগুলো যখন ফিরে আসে, কাঁটার সাথে আঘাত পেয়ে তারা নিজেই বাইরে ঝাঁপ দেয় এই ভেবে যে এতো প্রিয় মা-বাবা কেন এমন করছে?

এবারে বাবা ঈগল নিয়োজিত হয় তাদের উদ্ধারকার্যে নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই সে তার পিঠে করে ছানাগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে যতদিন পর্যন্ত ছানাগুলো তাদের ডানা ঝাঁপটানো না শুরু করে, এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে

প্রাপ্য শিক্ষা:

যেকোন রকম পরিবর্তনের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয় অভিযোজনে অভ্যস্ত হওয়া অর্থাৎ যেকোন পরিস্থিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখতে হয় আর ভুলে যেতে হয়না যে: “Life begins at the end of your comfort zone.” Comfort zone থেকে না বেরোলে জীবনে অগ্রগামী হওয়া প্রায় অসম্ভব

নীতি- :

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঈগল পাখির ডানার পালকগুলো দুর্বল হয়ে পরে, যে কারণে সে আগের মত খুব দ্রুত গতিতে উড়তে পারে না দুর্বল বোধ করলে সে এমন একটি জায়গায় আশ্রয় নেয় যেখানে পাথর রয়েছে সেখানে সে তার শরীরের প্রতিটি পালক টেনে ছিঁড়ে উঠিয়ে ফেলে নতুন পালক না গজানো পর্যন্ত সেই দুর্বল ঈগল কোথাও বের হয় না নতুন পালক গজিয়ে গেলে সে পুনরায় বজ্র গতিতে উড়ে বেড়ায়

প্রাপ্য শিক্ষা:

কাজ, দায়িত্ব, পড়াশোনার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যখন হাঁপিয়ে উঠতে হয়, সিদ্ধান্ত নিতে হয় একটু বিরতি নেওয়ার ছোট্ট একটি ছুটি নিয়ে সময় বের করতে হয় নিজের জন্য সময়টিতে একান্তে চিন্তা করতে হয় বা কোন কাজটি কারো কাছে অর্থপূর্ণ এবং কোনটি করার একেবারেই প্রয়োজন নেই ঈগলের মতো ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে হয় সেসব অপ্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্ব যা চলার গতিকে মন্থর করছে, এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে

সেই সাথে, নিজেকে যাচাই করে দেখতে হয় যে কোন কোন বদ অভ্যাসে বর্তমানে অভ্যস্ত কিনা ঈগল পাখির মতই ঝেড়ে ফেলতে হয় সেসব বদ অভ্যাস; পুনরায় শুরু করতে হয় নতুন পথচলা.......

সবশেষে একথা সত্যি যে, বিধাতা পৃথিবীকে এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন যে প্রকৃতি থেকেই মানুষ শেখার জন্য খুঁজে পায় অসংখ্য উৎস সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হলেও পশু-পাখিদের কাছ থেকেও কিন্তু শেখার আছে অনেক কিছু........

No comments

Powered by Blogger.