Header Ads

সালাত আর নামাজ আসমান জমিন তফাৎ!

 


সালাত আর নামাজ আসমান জমিন তফাৎ!


সালাত নিজের জীবনে কায়েম করতে হয় আর নামাজ অঙ্গ ভঙ্গি উঠাবসার মাধ্যমে মুখ দিয়ে পড়তে হয় কুরআনের সালাত অবিরত, সার্বক্ষণিক, আর নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত অর্থ -সরণ- সংযোগের মাধ্যমে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আর নামাজ অর্থ -প্রার্থণা উপাসনা আরাধন করা

Description:-

সম্মানিত পাঠক বন্ধু ভাই-বোনেরা আমরা যদি বর্তমানে কোন সফরে বা কোনো নতুন জায়গায় ভ্রমণের উদ্দেশ্য বের হই তাহলে আমরা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আধুনিক জিপিআরএস তথা গুগলে ম্যাপ ব্যবহার করে থাকি তেমনি ভাবে আমরা যারা মুসলমান আমাদের প্রত্যেকের ধর্মের বিধি বিধানের জন্য একমাত্র জিপিআরএস হলো আল কোরআন কুরআনের বিধি আদেশ নিষেধ গুলো মেনে চললেই আমরা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম হব

আসুন যারা চিন্তা শীল আছেন তারা জানার চেষ্টা করি নিচে কোরআনের কিছু আয়াত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি সেগুলো পড়ে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন যদি আপনার বিবেক আপনাকে কোরআনের আয়াতকে সঠিক বলে সাব্যস্ত করে তাহলে কুরআন অনুসরণ করুন আর যদি কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হাদিস গুলোকে আপনার সঠিক বলে মনে হয় তাহলে আপনি প্রচলিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে থাকুনতাতে আমার বলার কিছু নেইকারণ হেদায়েতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ্

আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত ধর্মের একমাত্র বিধানদাতা হলো আল্লাহ কখনো কোনো নবী বা রাসূল আল্লাহর নির্দেশের বাইরে গিয়ে নিজের মনগড়া কোন রীতিনীতি কে তাঁর অনুসারীদেরকে ধর্মের বিধান হিসেবে মানার নির্দেশ দেননি দেওয়ার প্রশ্ন আসেনা বা দিতে পারে না ভাই আমাকে কাফের মুশরিক যা ইচ্ছে ফতোয়া দেন কোন সমস্যা নেইমনে রাখবেন আমার কবরে আপনি যাবেন না বা আপনার কবরে কোন মৌল্লা মৌলভী বা আমি যাব না আপনার জীবনের হিসাব নিকাশ আপনাকে দিতে হবে অন্যকে মন্দ বা গালি দিয়ে নিজের পাপের বোঝা ভারি করা বোকার কাজ

সুরা আল হাক্কাহ(43) কুরআন বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ(44 ) সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত, (45 )তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,(46) অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা(47 )

তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না এমন কঠিন হুঁশিয়ারি তাঁর হাবিবকে দেওয়ার পর কেউ যদি মনে করে কুরআন বাদে রাসুল নিজের থেকে ধর্মের কোন বিধান দিয়ে গেছে! তার ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই

আল যুমার 27 : আমি কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে;

সুরা ফুরকান ৩০- এবং রাসূল বলিয়াছিলেন, হে আমার রব নিশ্চয়ই আমার কওম এই কোরআনকে বর্জনীয় রূপে গ্রহণ করে৩৩-আমরা তোমার কাছে এমন একটিও মেশাল আনি নাই যাহা সত্য সহ আনয়ন করি নাই এবং (যাহার) সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি নাই

সুরা আনকাবুত 51 :এটাকি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে পাঠ করা হয় এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্যে রহমত উপদেশ আছে65 তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শরীক করতে থাকে

সুরা আরাফ 2 : এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয় আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ

(3 তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না

সুরা ইউসুফ 103 : আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক বিশ্বাসকারী নয়(104) আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়! (105, অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ভু-মন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না(106) অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। (111) তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত হেদায়েত

সুরা সাবা 28 : আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না

সুরা আশ- শুরা 21 : তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি

সুরা কাহাফ,

. প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁহার দাসের উপর নাজেল করিয়াছেন কেতাব এবং তাহার জন্য (অর্থাৎ সেই দাসের জন্য) রাখেন নাই কোনও বক্রতা;

. (তাহাকে অথবা ইহাকে) করিয়াছেন দণ্ডায়মান (বা প্রতিষ্ঠিত) তাহা হইতে আগত কঠিন একটি যুদ্ধ বিষয়ে সাবধান করিয়া দেওয়ার জন্য এবং সৎ আমলকারী মোমিনদিগকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে, তাহাদের জন্য একটি সুন্দর পুরস্কার রহিয়াছে,

54 নিশ্চয় আমি কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়

56 আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে

সুরা বাকারার 115: পূর্ব পশ্চিম আল্লারই অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ(149) আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের লক্ষ্য মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন। (152) সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না। (177) সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে আর যারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। (252) এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, যা আমরা তোমাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে থাকি আর আপনি নিশ্চিতই আমার রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত

সুরা নিসা 26 আল্লাহ তোমাদের জন্যে সব কিছু পরিষ্কার বর্ণনা করে দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ

সুরা হিজরী (1 আলিফ-লা--রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত। 24 আমি জেনে রেখেছি তোমাদের অগ্রগামীদেরকে এবং আমি জেনে রেখেছি পশ্চাদগামীদেরকে

সুরা নূর (34 আমি তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ, তোমাদের পূর্ববর্তীদের কিছু দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহ ভীরুদের জন্যে দিয়েছি উপদেশ। 46 আমি তো সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ অবর্তীর্ণ করেছি আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালনা করেন

সুরা হা-মীম সেজদারএটা কিতাব, এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত আরবী কোরআনরূপে জ্ঞানী লোকদের জন্য

13 অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করলাম এক কঠোর আযাব সম্পর্কে আদ সামুদের আযাবের মত। (14 যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম

সুরা আনাম 55 আর এমনিভাবে আমি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি-যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে

আল জাসিয়া (6 এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে অতএব, আল্লাহ তাঁর আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে। 8 সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন

সুরা ছোয়াদ 29 এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে

সুরা মুহাম্মদ 24 তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?

সুরা হুদা 23 : নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে

সুরা বনী ইসরাইল (1) পরম পবিত্র মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী দর্শনশীল

সুরা নিসা আয়াত ৪৩ হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন মোহগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যাকিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) গোসল ফরয আবস্থায় যতক্ষণ না গোসল করে নাও

জনাব আপনি ভুল পথ ধরে সারা জীবন ভর হাঁটতে থাকলে যেমন সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়! তেমনি ভাবে যতই শারীরিক পরিশ্রম নগদ অর্থ সময় ব্যয় করে যত বেশি কুরআন বহির্ভূত এবাদত বন্দেগী করেন না কেন যদি সেটি কোরআনের বিধি বিধান পরিপন্থী হয় তাহলে সেটা আল্লাহর কাছে ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হবে নাআপনাকে যেকোন ধর্ম ধারণ করতে হলে সর্বপ্রথম পূর্বে প্রচলিত ধ্যান ধারণার উপর নির্ভর করে পালন করা আনুষ্ঠানিক ধর্মের নিয়ম নীতি গুলো আন মিউট করে আপনাকে আপনার প্রভু হতে প্রেরিত হওয়া ধর্মগ্রন্থের নিয়ম নীতিকে একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করে দৈনন্দিন জীবন যাপন করে আপন প্রভুর দাসত্বের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছে আকাঙ্ক্ষাকে বাদ দিয়ে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করটাই হলো সৎকর্ম বা ইবাদত

আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি কোরানে নির্দেশিত সালাত আর বর্তমানে প্রচলিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কি এক জিনিস কিনা কুরআন থেকে জেনে নিই? উত্তর হবে কখনো না! সালাত শব্দের অর্থ হলো সরণ-সংযোগ, বা যোগাযোগের প্রচেষ্টা বা দায়িত্ব পালন আর নামাজ অর্থ হল প্রার্থনা আরাধনা উপাসনা কে বুঝায় নামাজ পড়া সহজ কিন্তু নিজের জীবনে সালাত কায়েম বা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজস্রষ্টার সাথে সৃষ্টির যোগাযোগের মাধ্যম কখনো শারীরিক উঠাবসা বা দাঁড়ানো বা মুখে মুখে তোতাপাখি মত অর্থ নাবুঝে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্ভব হয় না! যদি নিজের বিবেক বুদ্ধি চিন্তা অন্তরের একাগ্রতা সৃষ্টির মাধ্যমে স্রষ্টার স্মরণ সংযোগের মাধ্যমে কর্ম সম্পাদন করা না হয়

আসুন দেখি কোরআনে কোথাও আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার আদেশ দিয়েছে কিনা দেখি? না সমস্ত কোরআনে আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যেমন, ফজর,জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার আদেশ করেছেন এই রকম একটি আয়াত কুরআনে খুঁজে পাবেন না? এখন এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে বেশিরভাগ মুসলমান বলবে কোরআনে নাই কি হয়েছে হাদিসে আছে প্রতিটা মুসলমানকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অবশ্যই পড়তে হবে যেহেতু নবীজি পড়েছে সেহেতু তার উম্মতদেরকে পড়তে হবে কিন্তু দুঃখের বিষয় কোরআনে কোথাও মহানবী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছে সেরকম একটি আয়াতও নাই এমনকি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্ৰন্থ গুলোতে সালাত অধ্যায়ে তাঁহার অন্যতম চার খলিফার মধ্যে কারো একটি হাদিস খুঁজে পাবেন না যদিও কোরআনে মহানবীর পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা রয়েছে আমরা কোরআনে দেখতে পায় প্রতিটা ধর্মের বিধি বিধানগুলো আল্লাহ শুধুমাত্র তাঁহার নবীও রাসূলের মাধ্যমে দিয়ে থাকে সেই হিসাবে মহাগ্রন্থ আল কোরআন হলো আল্লাহর পক্ষ হইতে মহানবীর বিশুদ্ধ হাদিস কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সেই বিশুদ্ধ হাদিসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোন সঠিক বর্ণনায় একটি আয়াতও নেই

নবীজির ইন্তেকালের প্রায় ২৫০ বছর পরে রাসুলের হাদিসের নামে সহি ট্যাগ লাগিয়ে উমাইয়া আব্বাসীয়রা যেসব হাদিসের মাধ্যমে আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ মনে করে আদায় করে আসছি সেই হাদীসগুলো যদি আপনারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পড়ে দেখেন দেখতে পাবেন একটা হাদীসের সাথে আরেকটা হাদিসের কোন মিল খুজে পাবে না নাই কুরানের সাথে মিল নাই বর্ণনাকারীদের একে অপরের সাথে মিল অথচ শুনা কথার উপর ভিত্তি করে নামাজকে ফরজ ইবাদত করে নিলঅথচ ফরজ করার এখতিয়ার শুধু মহান আল্লাহর রহিছে! মহানবী কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কর্মেকে ফরজ ইবাদত হিসেবে করার হুকুম দিবে এটা বিশ্বাস করা মহাপাপ বলে মনে করিএই হাদিসগুলো যে কোন বিবেকবান মানুষ অধ্যায়ন করলে সহজে বুঝতে পারবে কিভাবে মহানবীকে যুগে যুগে মানব জাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে! মুসা নবী দুনিয়ায় বেঁচে না থাকা অবস্থায় বুঝতে পারলেন মহানবীর উম্মতরা ৫০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে না!আর তাই তাঁর পরামর্শে মহানবীকে বারে বারে নয়বার স্বশরিলে আল্লাহর কাছে গিয়ে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ কে পাঁচ ওয়াক্ত করে কমিয়ে আনতে হয়েছে অথচ মহানবী বুঝতে পারলেন না তাঁহার উম্মতরা ৫০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে সক্ষম হবে কি না! এরা বলে মহানবী মেরাজ থেকে আসার সময় আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তাঁর বান্দাদের জন্য উপহারস্বরূপ দিয়েছে কিন্তু দুঃখের বিষয় কোরআনে মেরাজের আয়াতগুলো দেখলে নামাজের বিষয়ে কোন উল্লেখ বা ইশারা ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায় না

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় স্তম্ভ! কোরআনে যেখানে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে মহান আল্লাহ বিস্তারিত বিশদ বর্ণনা করেছেন সেখানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অবশ্যই করণীয় দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করবে না এটা কি বিশ্বাস করার মতো বিষয় হতে পারে? আল্লাহ কি তাঁর বান্দাদেরকে সাধ্যের অধিক কোন বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে? আল্লাহ নিজে কোরআনে বলেছেন তিনি তাঁর বান্দাদেরকে অতি দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন

তিনি বলেছেন তিনি কাহারো উপর জুলুম করে না তাহলে কি আল্লাহ জেনেশুনে তার বান্দাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ছাপিয়ে দিয়েছিল? আবার মুছা নবীর সুপারিশে কমিয়ে দিল? তাহলে কি আল্লাহর কাছে মুহাম্মদের চাইতে মুছা নবীর গুরুত্ব বেশি? যেখানে আল্লাহ নিজে বলেছেন তাঁর রাসূলদের মধ্যে তারতম্য না করতে! তিনি বলেছেন তাঁর নিয়মের কোন রদবদল হয় না তাহলে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ রদবদল করে পাঁচ ওয়াক্ত করলেন কেমন করে? এটা কোরআনের আয়াত পরিপন্থী নয় কি?

 নামাজ নিয়ে সহি বুখারীর হাদিস শরিফে কি উল্লেখ আছে দেখি:-

ইবনআব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমার কাছে আবূ সুফিয়ান ইবন হারব (রাঃ) হিরাকল-এর হাদীসে বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি কথাও বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমদেরকে সালাত, সত্যবাদিতা চারিত্রিক পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন

ইবনু হাযম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তারপর আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (/নামাজ) ফরয করে দিলেন আমি নিয়ে প্রত্যাবর্তনকালে যখন মূসা (আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনার উম্মতের উপর আল্লাহ কি ফরয করেছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন তিনি বললেনঃ আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান কারণ আপনার উম্মত তা আদায় করতে সক্ষম হবে না

আমি ফিরে গেলাম আল্লাহ পাক কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন আমি মূসা (আঃ) এর কাছে আবার গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন তিনি বললেনঃ আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না আমি ফিরে গেলাম তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হল আবার মূসা (আঃ) এর কাছে গেলাম, এবারো তিনি বললেনঃ আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না

তখন আমি আবার গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই (সওয়াবের দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (গণ্য হবে) আমার কথার কোন পরিবর্তন নেই আমি আবার মূসা (আঃ) এর কাছে আসলে তিনি আমাকে আবারো বলললেনঃ আপনার রবের কাছে আবার যান আমি বললামঃ আবার আমার রবের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন সন্মানীত পাঠক এইসব আজগুবি কথাগুলো দিয়ে রাসুলের সন্মান বৃদ্ধি হলো নাকি তাকে হেও প্রতিপন্ন করা হলো তার বিচারের বার আপনাদের উপর রইল

No comments

Powered by Blogger.