দেহ রাজ্যের বেলা ডুইবা যায়?
দেহ রাজ্যের বেলা ডুইবা যায়?
তুমি কি ঘুমায়ে আছ আইসা দুনিয়ায়?
মাটির মানুষ রে। দেহ রাজ্যের বেলা ডুইবা যায়?
এখানে কবি প্রতিটা মানুষের দৈহিক জীবনের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতিটা মানুষের বয়স দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসলে মূলত এই দেহ অসার হওয়ার দিন ঘনিয়ে আসছে। আমরা তা অনুভব করিনা।
কোথা হতে আইলা তুমি ভাবছিনি তা মনে।
আবার তুমি দুই দিন পরে যাইবা কোনখানে।
কে পাঠাইল কি বলিয়া করিতে কি কাজ?
পূর্বের কথা ভূইলা গেছ আজ।
আমরা এই পৃথিবীতে আসার আগের কোথায় ছিলাম, কি কারণে আল্লাহ আমাদের এই ধরণীতে প্রেরণ করলো। পৃথিবীতে আসার আগে আমরা আল্লাহর নিকট কি বলে এসেছি, ভবে আসিয়া আমরা কি কি করছি তাহা ভুলিয়া গিয়াছি।
মানুষ হইয়া জন্মে নিলা ,আসিলা সংসারে।
মাতা পিতা আদার করে পুষিলা তোমারে।
হাসিতে খেলিতে গেল শিশু কাল?
কিশোর গেল শৈশব গেল আসিল যৌবন কাল?
একজন মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়ে যখন এই ভব সংসারে আসলাম তখন আমার পিতা-মাতা অতি আসর যত্ন সহকারে আমাকে শিশু থেকে শৈশব এবং শৈশব কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পন পর্যন্ত লালন-পালন করেছেন।
কাম বাতাসে দেহে মারল উকি, আইল যৌবন কাল?
যৌবন এর ভারে তোমার দেহ টলমল।
এই যৌবন মিটাইবার জন্য আনলা একটা কল?
তোমার মাতা-পিতা আইনা দিল সুন্দর একটা নারী?
আমরা যখন যৌবনে পদার্পন করি তখন দেহে যৌবনের একটা ধাক্কা এসে পরে। এই যৌবনের ধাক্কায় দেহে উথাল-পাথাল ঢেউ জাগে। তখন পিতা-মাতা এই যৌবন চরিতার্থ করার জন্য সুন্দর দেখে একটা নারী এনে দেয়।
সে সাজিল বিবি তোমার, গোলাম তুমি তারি।
কামিনী কামতরঙ্গে হাবুডুব খাও ,
জোয়ার –ভাটা না বুঝিয়া ছাড়লা দেহে না্ও?
হঠাৎ একদিন ভাগ্যগুনে হইল একটা ছেলে?
সেই সুন্দরী রমণী যখন বিবি হয়ে আমার ঘরে আসলো তখন আমি সেই রমণীর গোলাম হয়ে গেলাম। কারণ ওই রমণীর খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছেদ আমাকেই বহন করতে হবে। তারপর সেই রমণীর কাম তরঙ্গে হাবু-ডুবু খেতে থাকি। আমি সেই কামিনীর কম সাগরে জোয়ার-ভাটা, উজান-ভাটি, সময়-ক্ষন কিছুই ভাবি না। এভাবে কিছুদিন কাম তরঙ্গে হাবু-ডুবু খাওয়ার পর একদিন যেখানে নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব উদয় হলে। অর্থাৎ এক নবজাতকের জন্ম হলো।
তোমার ছেলে হইল মেয়ে হইল, ফুরাইল যৌবন?
আগের মত গায়ে তোমার শক্তি নাই তেমন।
সব হারাইলা কাম নদীতে যায়া অসময়।
মুউতের এর খবর তোমার করা না কবুল।
এভাবেই আমার সংসার একে একে ছেলে আসলো মেয়ে আসলো সংসারকে সুন্দর করার জন্য। তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করতে করতে আমার শরীরের শক্তি আস্তে আস্তে কমা শুরু করলো। তখন শরীরে আগের মতো আর শক্তি সমর্থ থাকে না। কারণ আমি সেই কামিনীর কাম সাগরে সময়ে-অসময়ে গমন করার ফলে আজ আমার এই অবনতি। যতই দিন যায় ততই মরণের কথা স্মরণ হতে থাকে। আল্লাহর কথা স্মরণ হতে থাকে।
মালিক তোমার চিঠি দিল, পাকল মাথার চুল
দাড়ি পাইকা হইয়া গেল হইল কদম ফুল
চোখের শক্তি কইমা গেল।
শেষ পর্যন্ত মালিক আমাকে একে একে মরণের চিঠি দেওয়া শুরু করলো। আস্তে আস্তে আমার মাথার চুল পাকা শুরু করলো। দাড়ি-গোফ পেকে কদম ফুলের মতো হয়ে গেলো। চোখের দৃষ্টি শক্তি কমা শুরু হলো। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎ একদিন মালাকুল মউতের ডাকে সারা দিতে হলো।
উপসংহার:
পরিশেষে, আমার মালিক আমাকে কিজন্য এই ভবে প্রেরণ করলো তার কোনো কাজই করতে পারলাম না। এই ভবে আসা আর যাওয়াটাই হলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারলাম না।
No comments