স্বার্থপরতায় মানুষ
মানুষ যখন শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের কথা ভাবে, তখন তার মানবিকতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়। এই স্বার্থপরতা সম্পর্ক, সমাজ এবং পৃথিবীকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে। অথচ মানুষ যদি সামান্য নিঃস্বার্থতা দেখাত, তবে পৃথিবীটা আরও সুন্দর ও সহনশীল হতো।
স্বার্থপর লােক কখনও সরল হতে পারে না। নিজের স্বার্থ করতে করতে, মধ্যে মধ্যে এমন অবস্থা হয় যে নাকানি-চুবানি খেয়ে জীবন যাওয়ার ব্যবস্থা হয়।
স্বার্থপরতায় মানুষ অন্ধ হয়ে পড়ে, হুঁশ থাকে না। মানুষ পিশাচ হয়ে যায়, মান-সম্মান সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যায়। স্বার্থপর লােকের পক্ষে আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নতি লাভ করা অসম্ভব। অথচ স্বার্থপর লােক বুঝতেই পারে না যে, সে নিজে একজন স্বার্থপর লােক, অন্য কেউ বুঝালেও সে তা বুঝতে চায় না। স্বার্থপর লােক জীবনে কখনও শান্তির মুখ দেখতে পায় না।
তবে সংসার করতে গেলে অনেক বিষয়ে সাবধান হতে হয়। অনেককে দেখা যায় ঋণ করে কাজ কারবার করে, এটি অত্যন্ত খারাপ। কারন হঠাৎ মরে গেলে সেই ঋণের বােঝা থেকে যায়। মনে রাখবেন, ঋণ করা মহাপাপ।
তাই, যদি আপনার কাছে পাঁচশ টাকা থাকে তবে চার’শ টাকা দিয়ে সংসার চালান। বা অন্য কাজ করতে পারেন। একশ টাকা হাতে থাকা চাই। তাহলে আর কোন প্রকার সমস্যা হয়না।
কিন্তু অনেকে পাঁচশ টাকা থাকলে, হাজার টাকা দিয়ে ঋণ করে জমি কিনে বা কোন কাজ কারবার করে। এটা অত্যন্ত খারাপ, এতে অনেক সময় মান-সম্মান নষ্ট হয়ে মনের শান্তি নষ্ট করে দেয়।
মনে রাখতে হবে আপনার প্রতি লােকে যে সম্মান দেখায় ইহা দয়ালের দান। হেলায় সে দান নষ্ট করলে শেষে অনেক অনুতাপ করতে হবে।
তাই স্বার্থপর কখনও হতে নেই। স্বার্থপরের কখনও শান্তি হয় না, অনেক সময় বিশ্বাসঘাতক পর্যন্ত হয়ে পড়ে।।

No comments