“শা’বান মাসের ফজিলত” (শবে বরাতের দোয়া ও আমল)
‘শবে বরাত’ শব্দটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে “মুক্তির রজনী”। আরবিতে একে বলা হয় لَيْلَةُ الْبَرَاءَة (লাইলাতুল বরাআত), অর্থাৎ মুক্তির রাত্রি। এটি শা'বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত। ইসলামী পরিভাষায় এই রাতটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় হিসেবে বিবেচিত।
কুরআনে এই রাতের উল্লেখ
সূরা আদ-দুখান (৪৪:৩-৪): "নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাতে এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। ওই রাতে প্রত্যেক সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্ধারিত হয়।"
তাফসিরবিদদের মধ্যে
মতভেদ
আছে
যে,
এই
“বরকতময়
রাত”
দ্বারা
লাইলাতুল কদর বোঝানো
হয়েছে,
তবে
কিছু
তাফসির
অনুযায়ী এটিকে
শবে বরাত হিসেবেও ব্যাখ্যা করা
হয়।
হাদীসের আলোকে শবে বরাতের গুরুত্ব
হাদীস ১: রাসূলুল্লাহ (সা.)
বলেন:
“শা'বানের মধ্যরাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বান্দাদেরকে ডেকে বলেন, আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী – আমি তাকে ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক চাওয়া – আমি তাকে রিজিক দেব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত – আমি তাকে মুক্তি দেব?” (সহীহ ইবনে হিব্বান – ৩৬৮৩)
হাদীস ২: “আল্লাহ তাআলা শা'বানের মধ্যরাতে সারা সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (ইবনু মাজাহ: ১৩৯০, আলবানী
হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
এই রাতের আমল
১. নফল ইবাদত : শা'বান মাসের ১৫ তারিখ যোহরের নামায শেষে দুই রাকাত করে মোট চার রাকাত নামায আদায় করবেন। ১ম রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ১বার সুরা যিলযাল ও ১০বার সুরা ইখলাস: ২য় রাকাতে সুরা ফতেহার পর ১বার সুরা তাকাছুর ও ১০বার সুরা ইখলাস, ৩য় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ৩বার সুরা কাফিরুন ও ১০বার সুরা ইখলাস এবং ৪র্থ রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ৩বার আয়াতুল কুরসি ও ২৫বার সুরা ইখলাস পড়বেন।
ফযিলত: এই নামায আদায়কারীরকে আল্লাহ তা'আলা দ্বীন- দুনিয়ার মঙ্গল ও কল্যাণ এবং হাশর দিবসে রহমতের বিশেষ দৃষ্টি দান করবেন ইন-শা আল্লাহ।
২. তওবা ও ইস্তিগফার : শা'বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তথা বরাত রজনীতে মাগরিবের নামায শেষে ২ রাকাত নফল নামায আদায় করবেন। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর একবার সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ও একবার সুরা ইখলাস পড়বেন।
ফযিলত: এই নামায বিগত জীবনের গুনাহসমূহ ক্ষমা পাওয়ার জন্য বেশ উপকারী।
বরাত রজনীতে এশার নামাযের আগে দুই রাকাত করে মোট আট রাকাত নফল নামায আদায় করবেন। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ৫ বার করে সুরা ইখলাস পড়বেন।
ফযিলত: গুনাহ মাফের জন্য এই নামায়ও বেশ উপকারী।
৩.
দোয়া ও প্রার্থনা – নিজের,
পরিবারের ও
উম্মাহর জন্য
কল্যাণ
কামনা।
বরাত রজনীতে গভীর রাতে চার রাকাত করে আট রাকাত নফল নামায করবেন। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর দশবার করে সুরা ইখলাস পড়বেন।
ফযিলত: এই নামায আদায়কারীর জন্য আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন, যাঁরা তাঁকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের সুসংবাদ প্রদান করবেন।
4. রোজার প্রস্তুতি – পরের
দিন
(১৫
শা‘বান) রোজা রাখা
মুস্তাহাব (উপকারী)।
কিছু ভুল প্রচলিত বিশ্বাস
অনেক
জায়গায়
এই
রাতে
আলাদা
বিশেষ
ইবাদতের নিয়ম,
নির্দিষ্ট নামাজ
বা
আয়াত
পাঠ
প্রচলিত আছে
– যা
সহীহ
হাদীস
দ্বারা
প্রমাণিত নয়।
যেমন,
১০০
রাকাত
নামাজ,
নির্দিষ্ট সূরা
নির্দিষ্টভাবে পাঠ
করা
ইত্যাদি। এসব
থেকে
বিরত
থাকা
উচিত।
উপসংহার
শবে
বরাত
হলো
রহমত,
বরকত
ও
মুক্তির এক
মহামূল্যবান রাত।
এটি
আল্লাহর নিকট
ফিরে
আসার,
তওবা
করার
এবং
নিজের
ভবিষ্যৎ ভালো
করার
একটি
সুযোগ।
আমাদের
উচিত
এই
রাতটিকে গুনাহমুক্ত অন্তর
দিয়ে
ইবাদতের মাধ্যমে কাটানো।

No comments