গিয়ারভীশরীফের তারতীব
গিয়ারভী শরীফ হলো ইসলামের সম্মানিত অলী হযরত গাউসুল আজম আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে মাসিকভাবে পালনীয় একটি রূহানী মিলাদ মাহফিল। এটি সাধারণত আরবী মাসের ১১ তারিখে পালন করা হয় (তাই নাম "গিয়ারভী" = একাদশ)। এই ইবাদত-ভিত্তিক আয়োজনটি সুফি ধারার অনুসারীদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রচলিত এবং বরকতময় বলে বিবেচিত।
নীচে গিয়ারভী শরীফ আদায় করার একটি পরিপূর্ণ ও প্রচলিত তারতীব (পদ্ধতি) তুলে ধরা হলো:
১. নিয়ত (উদ্দেশ্য ঘোষণা)
শুরুতেই মনে মনে নিয়ত করুন: "আমি গাউসুল আজম হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর উরস শরীফ উপলক্ষে গিয়ারভী শরীফ পাঠ করছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।"
২. দরুদ শরীফ পাঠ
আল্লাহর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করুন। সাধারণত ১১ বার দরুদ ইব্রাহিম বা দরুদ তাজ পাঠ করা হয়।
৩. গিয়ারভী শরীফ
প্রথমে দরূদে তাজ শরীফ পড়ে শুরু করবেন এবং নিম্নলিখিত প্রত্যেক তাসবীহ বা দোয়া ১১ বার করে পাঠ করবেন।
১। বিছমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম ১১ বার, ২। আছতাগফিরুল্লাহ (শেষ পর্যন্ত) ১১ বার, ৩। দরূদশরীফ ১১ বার, ৪। সূরায়ে ফাতেহাশরীফ ১১ বার, ৫। সূরায়ে এখলাসশরীফ ১১ বার, ৬। আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ ১১ বার, ৭। আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ ১১ বার, ৮। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১১ বার, ৯। ইল্লাল্লাহ ১১ বার, ১০। আল্লাহু ১১ বার, ১১। আল্লাহ ১১ বার, ১২। হু আল্লাহ ১১ বার, ১৩। হু ১১ বার, ১৪। হুয়াল্লাহুল্লাজী লা ইলাহা ইল্লাহু ১১ বার, ১৫। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু ১১ বার, ১৬। আল লা ইলাহা ইল্লাহু ১১ বার, ১৭। আনতালহাদী আনতাল হক্ব লাইছালহাদী ইল্লাহু১১ বার, ১৮। ইয়া বাকী আনতাল বাকী১১ বার, ১৯। ইয়া কাফী আনতাল কাফী১১ বার, ২০। ইয়া শাফী আনতাশ শাফী১১ বার, ২১। ইয়া হাদী আনতাল হাদী১১ বার, ২২। হাছবী রাব্বি জাল্লাল্লাহু ১১ বার, ২৩। মা-ফি ক্বালবী গাইরুল্লাহ ১১ বার, ২৪। নূর মোহাম্মদ সাাল্লাল্লাহ১১ বার, ২৫। লা- মা’বুদা ইল্লাল্লাহ ১১ বার, ২৬। লা- মাওজুদা ইল্লাল্লাহ ১১ বার, ২৭। লা- মাকছুদা ইল্লাল্লাহ ১১ বার, ২৮। হুয়াল মুছাব্বিরুল মুহীতু আল্লাহ -১১ বার, ২৯। ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়ুমু - ১১ বার, ৩০। আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ - ১১ বার, ৩১। আচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু আলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ -১১ বার , ৩২। ইয়া শেখ সৈয়দ সুলতান আব্দুল কাদের জিলানী শাইয়ান লিল্লাহ -১১ বার, ৩৩। ফাছাহহিল ইয়া এলাহী কুলা ছুয়াবিম বিহুরমতি ছায়্যিদিল আবরার, ছাহহিল বিফাদলিকা ইয়া আজিজু - ১১ বার, ৩৪। দরূদ শরীফ ১১ বার, ৩৫। কাসিদায়ে গাউছিয়া শরীফ (সম্পূর্ণ পাঠ), ৩৬। মিলাদ শরীফ পাঠ, ৩৭। জিকির শরীফ: ক) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০ বার, খ) ইল্লাল্লাহ ১০০ বার, গ) আল্লাহু ১০০ বার, ৩৮। শাজরা শরীফ পাঠ, ৩৯। আখেরী মোনাজাত. ৪০। তাবারুক বিতরণ
এই পাঠটি হাদিয়া স্বরূপ
গাউসুল আজম (রহ.) সহ
সকল ওলিদের রূহের উদ্দেশ্যে
উৎসর্গ করুন।
৪. গিয়ারভীর নির্ধারিত দোয়া ও ফজিলত পাঠ
বিশেষ কিছু আরবী ও ফারসি দোয়া ও ফজিলতের বাক্য রয়েছে, যেমন: "নাদরান লিল্লাহি তা'আলা ওয়া ঈসালে সাওয়াবিলি রূহি সাইয়্যিদিনাল গাউসিল আজম আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)..." এই অংশে দোয়া করে বলা হয় যে, এই খতম ও ইবাদতের সওয়াব গাউসুল আজম (রহ.)-এর রূহের উদ্দেশ্যে উপহারস্বরূপ পাঠানো হচ্ছে।
৫. গিয়ারভী শরীফের বিশেষ কালাম ও মিলাদ পাঠ
· গাউসে পাকের বিশেষ মঞ্জিল বা গজল পড়া হয়।
· তার জীবনী থেকে কিছু অংশ আলোচনা করা হয়।
· মিলাদুন্নবী পাঠ করা যেতে পারে।
৬. সম্মিলিত দোয়া ও মোনাজাত
সবশেষে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মাগফিরাত, বরকত ও রহমতের দোয়া করা হয়।
৭. তবরুক বিতরণ
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে কিছু খাদ্য বা মিষ্টি তবরুক হিসেবে বিতরণ করা হয়।
গিয়ারভী শরীফের ফজিলত
· এটি আত্মশুদ্ধির মাধ্যম।
· গাউসুল আজম (রহ.)-এর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
· বিভিন্ন বালা-মুসিবত দূর হয়।
· আল্লাহর রহমত ও বরকতের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
.jpg)
No comments