Header Ads

সাধন করার পরেও কেন সাধনার ফলাফল পাওয়া যায় না?

অনেকেই দীর্ঘদিন সাধনা করেনজিকির, তপস্যা, নামাজ, ধ্যান, রিয়াজতসবই করেন নিয়ম মেনে, তবুও মনে হয় যেন আত্মিক শান্তি, ঈশ্বর অনুভব বা ভেতরের আলো কিছুতেই ধরা দেয় না। সুফি তত্ত্বে এই জটিল প্রশ্নের বেশ গভীর ব্যাখ্যা রয়েছে

কালি বলতে আপনারা সনাতনধর্ম হিন্দু ধর্মের বুঝেন উপমহাদেশে কালি বলতে সময় কাল চক্র নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত করেন তিনি কালি এখন সনাতনধর্মে দেবির কালো ভয়াবহ রুপ দেখে গালি দেন মুসলিম জাতি এটা না বুঝে বোকার মত গালাগালি দেন মুসলিম জাতির ভিতরে অসংখ্য কালি আছে মুসলিম জাতির কালি আলাদা তরিকা অর্থ পথ পদ্ধতির মাধ্যম, যে পথ মাধ্যমে পদ্ধতি রিতি নিতি নিয়ম মেনে সাধনা করে সুদূরপ্রসারী পথ দিয়ে গিয়ে আল্লাহ পর্যন্ত পৌছিয়ে যাওয়া যায় তাকে তরিকা পথ বলা হয় সত্যযুগে তিনটি তরিকা পথ পদ্ধতি অনুসরণ করে সাধনা করতে হবে আর এই পদ পদ্ধতি অনুসরণ করতে একেকটি তরিকা বিভিন্ন শক্তি সংযোগ কানেকশন করা আছে মানব দেহের নিচ হতে লতিফা চক্র জাগরন করে বুকে পৌঁছাতে পারলে আলো নুর দর্শন হয় তার পরে তৃতীয় নয়ন দুই ভ্রু মাঝখানে সিদরাতুলমুনতাহা বলে, আর এই পর্যন্ত লতিফা চক্র তুলার পরে বিভিন্ন আলোর দর্শন হয় মুলত এখন আপনি মনে করেন আপনারা বুকে কলবে আল্লাহ দেখবেন বা দুই ভ্রু মাঝখানে দেখবেন? এখন এই কলবে বুকে বা বা তৃতীয় নয়নে সিদরাতুলমুনতাহা ঘরে পৌঁছিয়ে মুল আল্লাহ দেখতে হলে আপনাকে মানব দেহের নিচ হতে লতিফা চক্র জাগরন করতে হবে আর এই নিচ হতে লতিকা চক্র জাগরন করতে প্রয়োজন হয় মুসলিম আলোর জগতের কালি পাশাপাশি ম্যাহদার লাগে এই দুই শক্তি আপনাকে দেহের নিচ হতে চক্র উর্দ্ধ আকাশে তুলতে সহয়তা করবে এই ভাবে একেকটি স্তর ঘাটে একেকটি শক্তির সাথে সংযোগ করে পৌঁছাতে হয় মুল স্থানে

. হৃদয় বিশুদ্ধ না হলে সাধনা ফল দেয় না

সুফিরা বলেন, সাধনার বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান যতই নিখুঁত হোক না কেন, যদি হৃদয় কলুষিত থাকে, তবে সে সাধনার দরজা খোলে না। যেমন: “যে হৃদয়ে অহংকার, হিংসা, রাগ, লোভ জমে থাকে, সেখানে আল্লাহর আলো প্রবেশ করে না।হৃদয় হলোআরশবা সিংহাসন, যেখানে প্রভু আসীন হন। তাই যতক্ষণ না হৃদয় পবিত্র হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সাধনার প্রকৃত ফল পাওয়া যায় না

. নিয়তের খোঁট নেই কি?

সুফি সাধনায় নিয়ত’ (অভিপ্রায়) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি সাধনার পেছনে গোপনভাবে থাকে:

  • খ্যাতির লালসা
  • অলৌকিক শক্তি পাওয়ার বাসনা
  • লোক দেখানো আচার

তবে সেই সাধনা অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ে। সুফি আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) বলেছিলেন: “যদি আল্লাহর জন্য কিছু করো, তবে ফল আসবেই; যদি নিজের জন্য করো, তবে তা হবে অন্তঃসারহীন।

. নফসের জাল থেকে মুক্ত না হওয়া

সাধকের ভিতর নফস অর্থাৎ আত্মকেন্দ্রিক চাহিদা, অহংকার প্রবৃত্তির জাল থেকে যদি মুক্তি না ঘটে, তবে সাধনা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। নফস প্রতিনিয়ত সাধনার পথে ফাঁদ পাতে। সুফি সাধকরা বলেন: “তুমি যদি ভেবে বসো তুমি সাধক, তবে তুমি অহংকারী; যদি মনে করো তুমি কিছুই নও, তবে তুমি পথে আছ।

. বাহ্যিক সাধনায় আটকে যাওয়া

সুফিগণ সতর্ক করেন, সাধনার রীতিতে আটকে যাওয়া মানে কখনো কখনো মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাওয়া। তারা বলেন: “তুমি নামাজ পড়লে ভালো, রোজা রাখলে উত্তমকিন্তু হৃদয়ে যদি প্রেম না জাগে, তবে সেসব শুধুই শরীরের শ্রম।সত্যিকারের সাধনা হলো আত্মাকে আল্লাহর প্রেমে লীন করা

. আল্লাহর ইচ্ছা ধৈর্যের পরীক্ষা

অনেক সময় আল্লাহ নিজেই সাধকের ধৈর্য নিষ্ঠা যাচাই করেন। ফল পেতে সময় লাগে, কারণ:

  • আত্মার পরিপক্বতা প্রয়োজন
  • হৃদয়ের গোপন দাগ মুছে যেতে সময় লাগে
  • ইচ্ছার ত্যাগ আত্মসমর্পণ পুরোপুরি না হলে ফল ধরা দেয় না

সুফিগণ বলেন: “আল্লাহ কখনোই তোমার আহ্বানে নিরুত্তর থাকেন না, তবে তিনি কখন আসবেন তা তিনিই জানেন।

উপসংহার

সাধনার ফল না পাওয়ার পেছনে বাহ্যিক কোনো সমস্যা কম, অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতা বেশি। সুফি তত্ত্ব অনুসারে, ফল পেতে হলে চাই:

  • বিশুদ্ধ নিয়ত
  • অহংকারহীন হৃদয়
  • নফসের দমন
  • আত্মসমর্পণ
  • অটুট ধৈর্য

 সাধনা সফল হয় তখনই, যখন সাধক নিজেকে হারায় এবং আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই চায় না।



No comments

Powered by Blogger.