পীরের আনুগত্য করা ফরজ।
কথিত আলেমগন বলেন, তোমরা যে পীরের আনুগত্য করো, সেই পীর কি তোমাদের জান্নাতে নিতে পারবে? আরো বলেন তোমাদের পীরের কোন খবর থাকবে না। হাসরের মাঠে নবীগনই ইয়া নফসি ইয়া নফসি করবে! (নাউযুবিল্লাহ)। আর তোমাদের ভ"ন্ড পীর মুরিদের কোন খবরই থাকবে না! এই সমস্ত কথা বলে তারা সমাজে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে থাকে। অবশ্য একটি কথা ঠিক বর্তমানে কিছু পীর রয়েছে,তারা লোভী সার্থবাদী এবং বিভিন্ন ভাবে মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলেছে। এরা মুলতো পীর নয় এরা পীর নামের কলংক এদের থেকে সাবধান থাকবেন।
১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য :
“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আমান্দার প্রতি আনুগত্য করো; এবং আল্লাহ্র আনুগত্য করো, তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, এবং তোমাদের মধ্যে যারা ‘উলিল-আমর’—মত, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা বা জ্ঞানীগণের—তাদেরও আনুগত্য করো। আর যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব হয়, তাহলে তাকে ফিরিয়ে দাও আল্লাহ ও রসূলের কাছে; এটিই উত্তম এবং ফলাফলেও শ্রেষ্ঠ।” — [সূরা
আন-নিসা, আয়াত ৫৯]
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় — আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং ওলিল আমরদের (যাদের মধ্যে পীর, ইমাম, আলেম থাকতে পারে) আনুগত্য ইসলামী জীবনে বাধ্যতামূলক, তবে তা অভিন্নভাবে
নয়
বরং
আল্লাহ
ও
রাসূলে
সম্মতি
সাপেক্ষে।
“তাহলে কী হবে যখন তাদের নিজেদের পূর্বকৃত কৃত্যের পরিণতিতে তাদের উপর বিপদ আছড়ে পড়বে? তখন তারা আসে তোমার কাছে, আল্লাহর নামে শপথ করে, ‘আমরা চাইনি আর কিছুই, শুধু خیر ও সমতা ও অনুগ্রহ!’” — [সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬২]
এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে, যারা মন্দ কাজ করেছে তারা সমস্যা মুহূর্তে এমনভাবে শপথযোগে মিথ্যা দাবি করে যে, তারা আসলেই কেবল শান্তি ও কল্যাণই চেয়েছে।
“আমরা কোন রসূলই প্রেরণ করিনি مگر তিনি – আল্লাহ্র অনুমতিতে
– আনুগত্যের
জন্য,
এবং
যদি
তারা
নিজেদের
উপর
অনাচার
করার
পর
তোমার
কাছে
এসে
আল্লাহর
কাছে
ক্ষমা
প্রার্থনা
করতো,
আর
রসূলও
তাদের
জন্য
ক্ষমা
চাইতেন,
তবে
তারা
পেতো
সেই
আল্লাহকে
– যে
মহান
ক্ষমাশীল
ও
দয়ালু।” — [সূরা আন-নিসা,
আয়াত ৬৪]
এই আয়াত বলে: রসূলদ্বারা প্রদত্ত নির্দেশে আল্লাহর আনুগত্য বাধ্যতামূলক, এবং তাদের যদি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতেন, তাহলে আল্লাহ সর্বদা ক্ষমা ও দয়া করবেন।
১. অন্ধ আনুগত্য নিষেধ
রাসূলুল্লাহ ﷺ
বলেন:
“আল্লাহর সৃষ্টির কাউকে এমনভাবে আনুগত্য করো না, যা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অবাধ্যতায় হয়।” — [সহীহ
বুখারী,
হাদীস:
৪৩৪০]
এ
হাদীস
দ্বারা
স্পষ্ট
বোঝা
যায়,
কোনো
পীর,
মুর্শিদ, শায়েখ
বা
আলেম
বাবা-মা— যদি শরীয়তবিরোধী কিছু
বলেন,
তাহলে
তার
আনুগত্য হারাম।
- কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কথাবার্তা
বলেন
- নিজেকে রাসূল বা আল্লাহর সমমর্যাদায়
বসান
- নিজস্ব বানোয়াট নিয়ম চালু করেন
তাহলে
তাঁর
আনুগত্য হারাম ও শিরক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পীর-মুর্শিদের ভূমিকা ইসলামে:
একজন হক্কানী পীর অবশ্যই, রাসুল (সঃ) এর মহব্বত হৃদয়ে ধারণ করে একজন রাসুল প্রেমিক হবে, মাওলা আলী (আঃ) ভালবাসা হৃদয়ে ধারন করবে,জগৎ জননী মা ফাতেমাতুজহুরার মহব্বতী হবে, মাওলা ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনের প্রেম বুকে ধারণ করে চলবে।পাকপাঞ্জতনের প্রেমে তার মুরিদদেরকে বিভোর হতে বলবে।কারণ একজন হক্কানী পীর মাওলা আলী (আঃ) এর গোলামী করে সে পীর হয়, তাই তার মুরিদদেরকেও সেই গোলামীর শিক্ষাই সে দেবে।
উপসংহার:
ইসলাম
অনুযায়ী পীরের
প্রতি
শ্রদ্ধা রাখা
উচিত
যদি
তিনি
কুরআন
ও
হাদীসের আলোকে
জীবন
পরিচালনা করেন।
তবে
তাঁর
প্রতি
অন্ধ
আনুগত্য কোনো
অবস্থাতেই ফরজ
নয়।
ফরজ
হলো
শুধুমাত্র আল্লাহ
ও
রাসূলের আনুগত্য। পীর
যদি
শরীয়তবিরোধী নির্দেশ দেন,
তাহলে
তা
মানা
হারাম।
.jpg)
No comments