Header Ads

সম্যক 'গুরু'

 


সম্যক 'গুরু'


'গু' মানে অন্ধকার, 'রু' মানে আলো অন্ধকার থেকে যিনি আলোর দেশে নিয়ে যেতে পারেন তিনিই তো সম্যক 'গুরু' অন্ধকার কলবের অধিকারী ব্যক্তি কখনো গুরু হতে পারে না যে গুরু দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তার সত্তাকে দুনিয়ার নিকট বিলিয়ে দেয় সে কখনো গুরু হতে পারে না এবং সে গুরু নামের কলঙ্ক এবং তরিকতপন্থীদের আগাছাস্বরূপ, কেননা তার মাঝে দুনিয়ার আবর্জনা প্রবেশ করেছে কোরানকে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে অণু অণু করে ব্যাখ্যা করলেই মোফাসসের বা ব্যাখ্যাকারী হওয়া যায় কিন্তু গুরু হওয়া যায় না আর বিদ্যান অন্ধ ভক্তদের কুর্নিশ গ্রহণ করলেই গুরু হওয়া যায় না যিনি গুরু তিনি শিষ্যের সঙ্গে সঙ্গে চলবেন সর্বকর্মে, সর্বচিন্তায়, ধ্যানে-জ্ঞানে, স্বপনে নূরের সংযোগ দিয়ে অন্ধকার কলবকে আলোকিত করার চেষ্টা করবেন সেই কলব ধীরে ধীরে আলোকিত হবে, তারপর সেই আলোতে ভক্ত বিচিত্র বর্ণ, রঙ, রূপের সমাহার দেখতে পাবেন, এমনকি রহস্যলোক থেকে আওয়াজও শুনতে পাবেন এগুলো দেখেশুনে ভক্ত উৎসাহী হয়ে আরও ধ্যানে নিমগ্ন হবেন এবং নিভৃতে একাকিত্বের মঞ্জিলে (দুনিয়ার আবিলতা থেকে মুক্ত পরিবেশে) চলে যাবেন এবং অপেক্ষায় থাকবেন কখন তার প্রেমিক আসবেন, কথা বলবেন গোপনে গোপনে কখনো তিনি প্রেমিক আবার কখনো প্রেমাস্পদ, আবার কখনো তিনি প্রেমাস্পদ কখনো প্রেমিক এই মঞ্জিলে অবস্থান করলেই আশিক বেদম বলেছেন- “দিওয়ানো কো দুনিয়া আওর হি হ্যায় হর রঙ বদলতে রহতে হ্যায়, ইস ইশককি মঞ্জিল লে কর মস্তানে বদলতে রহতে হ্যায়" চলার পথে প্রথমে গুরুশিষ্য দু'জন চলবে একসাথে, সংযোগ প্রদানের পর গুরু আস্তে আস্তে সরে যাবেন, শিষ্য চলবেন একা একা এই প্রসঙ্গে একটা কথা অবশ্য মনে রাখা কর্তব্য যে, যতই দুধ-কলা নজরানা, ভ্যাট ওরস করুন না কেন সম্যক গুরু বা মুর্শিদ না হলে আপনাকে ঘোলা পালির চৌবাচ্চা থেকে উত্তোলন করে অমৃত সাগরের সুধা পান করাতে পারবে না কথার ফুলঝুরিতে, ভাষার ছন্দের লম্বা লম্বা গাঁথুনিতে মানুষকে চমক লাগিয়ে দেওয়া যায় সত্যি কিন্তু অন্ধকার কলবকে জাগরিত করে The great No-এর জগতে নিয়ে যাওয়া যায় না যিনি এক আলো থেকে হাজার বাতি প্রজ্বলিত করতে পারেন তিনিই তো সম্যক গুরু কারণ তাঁর কাছে আলোর কোনো ঘাটতি নেই, তাঁর আছে অফুরন্ত আলো

No comments

Powered by Blogger.