মহান আল্লাহর সর্ব প্রথম সৃষ্টি কোনটি?
ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সময়, স্থান ও সৃষ্টি জগত থেকে স্বাধীন। তিনি কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল নন। আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি কী ছিল —
আহকামুল হাকিমিন আল্লাহ তায়ালা’র একটি গুণ হলো مريد ইচ্ছাকারী। তিনিযেভাবে যা হওয়ার ইচছা করেন, তা সেভাবেই হয়। যেমন- এরশাদ হচ্ছে, যখন আল্লাহ কোন বিষয় হওয়ার ইচছা করেন, তখন তাকে বলেন হও অতঃপর তা হয়। তাই আল্লাহ তায়ালার যে সৃষ্টি যখন হওয়ার ইচ্ছা করেন, তা তখন হয় হয়েছে এবং হবে। যেমন, আল্লাহ তায়ালা আসমান-জমিন ও উভয়ের মাঝে যা রয়েছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন রবিবার শুরু করে শুক্রবারে শেষ করেছেন। বিশেষ হেকমতে একদিন এক সাথে সৃষ্টি না করে একেক দিন একেক ধরণের বস্তু সৃষ্টি করেছেন।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে সকল সৃষ্টির মাঝে প্রথম সৃষ্টি কোনটি? এ ব্যাপারে বিভিন্ন মূখী হাদীস শরীফ দেখা যায়। যেমন-
১। একটি হাদীস শরীফে রয়েছে- প্রথম আল্লাহ আমার রুহকে সৃষ্টি করেছেন।
২। আরেকটি হাদীস শরীফে রয়েছে- প্রথম আল্লাহ আমার নূরকে সৃষ্টি করেছেন।
৩। অপর একটি হাদীস শরীফে আছে- প্রথম আল্লাহ কলমকে সৃষ্টি করেছেন।
৪। অন্য একটি হাদীস শরীফে আছে- প্রথম আল্লাহ আকলকে সৃষ্টি করেছেন।
৫।অপর একটি হাদীস শরীফে রয়েছে- প্রথম আল্লাহ আরশকেসৃষ্টি করেছেন।
এই বিষয়ে বিভিন্ন হাদীস এবং আলেমদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিস্তারিত আলোচনা নিচে করা হলো।
১. হাদিসের আলকে প্রথম সৃষ্টি কলম :
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেন। অতঃপর তাকে বললেন: লিখ। কলম বলল: হে আমার প্রভু! আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, তা-ই লিখে ফেলো।" — [তিরমিযী: 2155; আবু দাউদ: 4700 — হাদীসটি সহীহ] এটি ইসলামী স্কলারদের
মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত,
কারণ এটি সহীহ সূত্রে
প্রমাণিত।
উল্লেখিত সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম সৃষ্টি কোনটি তা হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) এর হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হউক। আপনি
আমাকে জানিয়ে দিন, সকল বস্তুর পূর্বে সর্বপ্রথম কোন বস্তুকে আল্লাহ তায়ালা
সৃষ্টি করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, হে জাবের! নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সকল বস্তুর পূর্বে তোমার নবীর নূরকে তাঁর নূর হতে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর ঐ নূর আল্লাহ তায়ালা যেখানে চেয়েছেন সেখানে তাঁর ক্ষমতায় প্রদক্ষিন করতে ছিলেন। ঐ সময় লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেস্তা, আসমান এবং জমিন কিছুই ছিলনা।
ছহীহ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম কাসতাল্লানী (র:) বলেন- হাদীস
শরীফে রয়েছে কলমকে প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছে, এর মর্ম হলো- নূরে মোহাম্মদী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি ও আরশ ব্যতীত অন্যান্য সৃষ্টি হতে আনুপাতিক হিসেবে প্রথমে কলমকে সৃষ্টি করা হয়েছে অর্থাৎ সর্ব প্রথম নূরে মোহাম্মদীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর পানি অতঃপর আরশ অতঃপর কলমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (মাওয়াহেবুল লাদুনিয়াহ ১ম খন্ড পৃষ্ঠা নং ৭৪)
২. কুরআনে কলমের গুরুত্ব:
যদিও কুরআনে "আল্লাহ প্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন" এভাবে বলা হয়নি, তবে সূরা আল-কলম-এ কলমের প্রতি কসম খাওয়া হয়েছে: "নুন, কসম কলমের এবং যা কিছু তারা লিখে..." — [সূরা আল-কলম, আয়াত ১]
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় কলম একটি মর্যাদাপূর্ণ সৃষ্টি, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে — যেমন তাকদীর লেখা।
৩. আলেমদের দ্বিতীয় মতামত: নূর-ই-মুহাম্মদী (নবীর আলো):
ê ইমাম আবহারী (র:) বিভিন্ন বর্ণনায় সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন- প্রথম সৃষ্টির বিষয়টি এজাফী তথা আপেক্ষিক বা তুলনা মূলক বিষয়। প্রকৃত প্রথম
হলেন নূরে মোহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম মোল্লা আলী কারী (র:) বলেন এ বিষয়টি আমি মাওরাদ লিল মাওলাদ কিতাবে বর্ণনা করেছি। (মেরকাত
প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নং- ১৬৬)।]
ê ইমাম ইবনে হাজার (র:) প্রথম সৃষ্টির বর্ণনা সমূহে নিন্মের মতামত ব্যক্ত করেছেন, প্রথম সৃষ্টির ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। আর সকল বর্ণনার সারমর্ম হলো, নিশ্চয়ই সৃষ্টি সমূহের প্রথম সৃষ্টি নূরে মোহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম অতঃপর পানি, অতঃপর আরশ। যা আমি শরহে শামায়েলে তিরমিযীতে বর্ণনা
করেছি। (মেরকাত প্রথম খন্ড পৃষ্ঠানং ১৪৬)
ê ১০ম শতাব্দির মোজাদ্দিদ মোল্লা আলী কারী (রা:) বলেন, নিশ্চয়ই প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা হলো- আকল।নিশ্চয়ই প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা হলো- আমার নূর। নিশ্চয়ই প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা হলো- আমার রুহ। নিশ্চয়ই প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি
করেছেন তা হলো- আরশ। উপরোক্ত বর্ণনা সমূহে প্রথম সৃষ্টির বিষয় সমূহ তুলনামূলক আপেক্ষিক বিষয়। অতঃপর ব্যাখ্যা করা হয় যে, নিশ্চয়ই উল্লেখিত প্রত্যেক
প্রথম সৃষ্টি, তা হলো এর সমজাতীয় হতে প্রথম সৃষ্টি। সুতরাং কলম জাতীয়
সৃষ্টি সমূহের মাঝে তাকদীর লেখার কলমকে প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরকে সকল নূরের প্রথম
সৃষ্টি করা হয়েছে। তা না হয় সাব্যস্ত রয়েছে যে, নিশ্চয়ই আরশ আসমান সমূহ
ও জমীনের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই প্রথমত্ব বিষয়টি প্রত্যেকের ক্ষেত্রেশর্ত সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে। তাই বলা হয় অর্থসমূহের মধ্যে এটা প্রথম অর্থ।আর নূর সমূহের মাঝে এটা প্রথম নূর। আর এ পর্যায়ের হাদীস শরীফ হলো- আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি আমার নূর। অন্য বর্ণনায় আমার রুহ। উভয়ের অর্থ একই কেননা রুহসমূহও নূরানী। অর্থাৎ প্রথম যা আল্লাহ রুহসমূহ হতে সৃষ্টি করেছেন তাহলো- আমার রুহ। (মেরকাত ১ম খন্ড ১৬৭ নং পৃষ্ঠা)
ê গাউছে পাক আবদুল কাদের জিলানী (র:) প্রথম সৃষ্টির হাদীস শরীফগুলোর মাঝে সমন্বয় করতে গিয়ে খুব সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন- অতঃপর যখন আল্লাহ তায়ালা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রুহকে তাঁর জামাল নূর হতে সৃষ্টি করেন। যেমন, আল্লাহ তায়ালা হাদীসে কুদসীতে এরশাদ করেছেন- “আমি মোহাম্মাদকে প্রথমে আমার নূর হতে সৃষ্টি করি” এবং নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমান- প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি করেন তা হলো আমার রুহ আর প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা হলো আমার নূর। আর প্রথম যা আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেন তা হলো- কলম। প্রথম যা আল্লাহ সৃষ্টি করেন তা হলো- আক্বল। উপরোক্ত হাদীস সমূহে রুহ, নূর, কলম, এবং আকল যা প্রথমসৃষ্টি করা হয়েছে এগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য একটিই আর তা হলো আমাদের নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কিন্তু তাঁকে নূর বলে নামকরণ করা হয়েছে, কেননা তিনি জালালীয়া জুলমানিয়াত হতে মুক্ত। যেমন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন- নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট নূরএবং কিতাব এসেছে। আর তাঁকে আকল হিসেবে নাম রাখা হয়েছে, কেননা তিনি সবকিছু অবগত। আবার তাঁকে কলম বলে নাম রাখা হয়েছে কেননা তিনি হলেন জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম, যেমন কলম হলো পৃথিবীর জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম। অতএব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রুহ হলো সৃষ্টির সার, সৃষ্টি জগতের প্রথম সৃষ্টি এবং এদের মূল। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমি আল্লাহ হতে আর মোমেনগণ আমার হতে। (সিররুল আসরার পৃষ্ঠানং-৪৪)]
ê আল্লামা হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন হাসান দিয়ার বিকরী (র:) তারীখুল খামীস কিতাবে বলেন, বিজ্ঞজনের
অভিমত হলো- প্রথম সৃষ্টি সংক্রান্ত হাদীস সমূহের উদ্দেশ্য মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিই কিন্তু সম্পর্ক ও পর্যায়ের
বিভিন্নতার কারণে বিভিন্ন নামে বুঝানো হয়েছে।সাধারণের বুঝার জন্য বলতে হয়- মনে করুন, আবদুল্লাহ নামে একজন ব্যক্তিকে তার পিতা-মাতার দিকে সম্পর্ক করলে সে ছেলে, তার সন্তানের দিকে সম্পর্ক করলে সে পিতা, স্ত্রীর দিকে সম্পর্ক করলে সে স্বামী এবং শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর দিকে
সম্পর্ক করলে জামাতা। একজন ব্যক্তি যেভাবে একেক দৃষ্টিতে একেক নামে ভূষিত হয় তদ্রুপ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সত্তাই বিভিন্ন গুণের দিক দিয়ে বিভিন্ন নামে ভূষিত হয়েছেন।
ê অনুরূপ বর্ণনা বিস্তারিতভাবে তাফসীরে রুহুল বায়ানে আছে,
অসম্ভবের কিছু নয় যে, এই মহান ফেরেস্তা যা প্রথম সৃষ্টি এটা নবীর রুহ। কেননা প্রথম সৃষ্টি একজনই, তাঁর রয়েছে বিভিন্ন নাম। কেননা তাঁরমাঝে প্রত্যেক গুণ অনুসারে একেক নামে নাম রাখা হয়েছে। আর এতে কোন সন্দেহনেই নিশ্চয়ই সৃষ্টির মূল হলেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।যেমন হাদীসে এসেছে “আপনি না হলে আমি জগৎ সৃষ্টি করতাম না”।
এটাই হলো সর্বোত্তম ব্যাখ্যা যে, তিনি হলেন সৃষ্টির মূল আর তিনি ব্যতীত যা রয়েছে তা তাঁরই পরে সৃষ্টি হয়েছে। কেননা তিনি রুহের সাথে হলেন সৃষ্টিজগতের গাছের বীজের ন্যায়। আর তা হলো, ছিদরাতুলমোনতাহা। অতঃপর ফল যেমন গাছের শাখা হতে বের হয় তদ্রুপ তার বের হওয়া হয়েছে ক্বাবা
কাওছাইনে আও-আদনা হতে। অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টি মহান আল্লাহর অতি নিকট হতে এজন্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- আমরা শেষে আগমনকারী ও অগ্রবর্তী অর্থাৎ আত্মপ্রকাশের দিক দিয়ে আমরা হলাম ফলের ন্যায় সর্বশেষে এবং সৃষ্টির দিক দিয়ে বীজের ন্যায় অগ্রবর্তী।
৪. ইমাম নববী (রহ.) এবং অন্যান্য স্কলারদের মত:
ê ইমাম নববী, ইবনু হাজার আসকালানী, ইবনে কাসীর, সহ অনেক মুফাসসির
ও মুহাদ্দিস বলেন: "প্রথম সৃষ্টি হলো কলম। এটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং অধিকাংশ স্কলার এটিকেই গ্রহণযোগ্য মনে করেন।"
ê ইমাম কাসতাল্লানী (র:) বলেন, প্রথম সৃষ্টির বিষয়টি মতানৈক্য রয়েছে।নূরে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টির পর প্রথম কি কলম সৃষ্টি করা হয়েছে? এ ব্যপারে হাফেজ আবু ইয়ালা আল হামদানী (র:) কে জিজ্ঞাসা করায় উত্তরে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ কথা হলো- আরশের সৃষ্টি কলম সৃষ্টির প্রথমে, কেননা ছহী মুসলিমে আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ সৃষ্টি জগতের তাকদীরকে আসমান সমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে
নির্ধারণ করেছেন। এমতাবস্থায় আরশ ছিল পানির উপর। তাই এতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নিশ্চয়ইতাকদীর আরশ সৃষ্টির পর সংগঠিত হয়েছে। আর তাকদীর সংগঠিত হয়েছে কলম সৃষ্টিরপ্রথমে। দলীল হলো ওবাদা ইবনে ছামেত (র:) এর মরফু হাদীস। আল্লাহ প্রথমে যাসৃষ্টি করেছেন তাহলো কলম। আল্লাহ কলমকে বলনে তুমি লেখ। কলম বললো- হে রব।আমি কি লিখবো? তিনি বললেন, তুমি প্রত্যেক বস্তুর তাকদীর লিখ। (ইমাম আহমদ ওতিরমিযী বর্ণনা করেছেন, মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং ৭২)] এর দ্বারাও বুঝা গেল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বপ্রথম সৃষ্টি ।
ê হাকীমূল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী (র:) বলেন- আমি মহান আল্লাহর অনুগত বান্দাদের মধ্যে প্রথম অনুগত। হযরত আম্বিয়া, আউলিয়া সকল সৃষ্টি আমার থেকে আনুগত্য শিক্ষা করেছে। আমি অনেক বছর যাবত
আল্লাহর আনুগত্য করেছি যখন আমার নূর ব্যতীত কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না, না জমিন ছিল, না আসমান ছিল, না চন্দ্র ছিল, না সূর্য, না ফেরেস্তা, না জীন-ইনসান ইত্যাদি। অনুগতকারীগণের মাঝে প্রকৃত প্রথম হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম অন্যান্য নবী, অলি এবং মুমিনরা হলো- এজাফী তথা আপেক্ষিক বাতুলনা মূলক প্রথম। প্রকৃত প্রথম আর আপেক্ষিক প্রথমের মাঝে অনেক পার্থক্যরয়েছে। আমরা আমাদের সন্তান, বন্ধুবান্ধব, কোন অধীনস্থ শিষ্য মুরিদদেরতুলনায় প্রথম অনুগত হতে পারি। কিন্তু প্রকৃত প্রথম ইবাদতকারী হলেন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাফসীরে নঈমী ৮/৩১০)
৫. কোন কলম প্রথম সৃষ্টি?:
কোরআন মাজীদ, হাদীস শরীফ এবং নির্ভরযোগ্য ওলামায়েকেরামের অভিমত দ্বারা প্রমাণিত হলো আমাদের নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আল্লাহ তায়ালার সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং বিশেষ হিকমতে এ নূর মোবারকের মাধ্যমে তিনি অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করেছেন। এজন্য এই নূরকেজাতী নূর তথা আল্লাহর সৃষ্টির মূল নূর বলা হয়। যেসকল বর্ণনায় অন্য বস্তুকেপ্রথম সৃষ্টি বলা হয়েছে এ সকল হাদীস ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য। হয়তবা তারাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্য কোন গুনবাচক নাম। অথবাএগুলো প্রথম সৃষ্টি সর্ব প্রথম সৃষ্টি নয়। তথা তুলনা মূলকভাবে প্রথম, প্রকৃত প্রথম নয়। অর্থাৎ এজাতীয় বস্তুর মাঝে এটা প্রথম সৃষ্টি।
উদাহরণ স্বরূপ কলম বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন-
১. লাওহে মাহফুজে তাকদির লেখার কলম।
২. আদম (আ:) ও বনী আদমের তাকদির লেখার কলম।
৩. মার পেটে রুহ ফুকে দেয়ার পর রিজিক, মৃত্যু, আমল এবং সৌভাগ্যশীল বা দূর্ভাগা লেখার কলম।
৪. বালেগ হওয়ার পর মানুষের কর্ম লেখায় কেরামান কাতেবীন তথা সম্মানিত লেখক ফেরেস্তাগণের কলম।

No comments