Header Ads

"আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা।"


 "আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা"



১৯শে রমজান, নূরনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃএর রেখে যাওয়া ইসলাম উহার ধারাবাহিকতার কিস্তি পবিত্র বেলায়েতের উপর মহা আঘাতের এক শোকাবহ দিবসনবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগের সূচনায় আল্লাহ-রসূল কর্তৃক ঘোষিত মু'মিনদের মাওলা এবং পবিত্র আহলে বাইয়েত বেলায়েতের প্রধান কর্ণধার হযরত মাওলা আলী আঃ ছিলেন ইসলামের একজন একনিষ্ঠ মহান খাদেম ৩৫ হিজরীর ২৪শে জিলহজ্জ হইতে ৪০ হিজরীর ১৭ই রমজান পর্যন্ত মোট বছর মাস তিনি সর্বসাধারণ জনগণ কর্তৃক মনোনীত হইয়া ইসলামের তৎকালীন খলিফা হিসাবে গুরু দায়িত্ব পালন করেন

নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর বিদায় হজ্জের শেষে গাদীরে খুম নামক স্থানে আল্লাহ পাক তাঁহার প্রিয় হাবিব সাঃ কে জানাইয়া দেন- "আন্না আলীউন মাওলাল মু'মিনিন" অর্থাৎ "আলী মুমিনদের মাওলা" যাহা সূরা মাইয়েদাহ এর ৬৭ নং বাণীর মধ্য হতে কর্তন কৃত প্রধান অংশ এই বাণী মোতাবেক ঠিক তখুনি সোয়া লক্ষ মুসলমানের সামনে নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাঃ ঘোষণা দিয়াছেন- "মান কুনতু মাওলাহু ফা হাযা আলীউ মাওলাহু" অর্থাৎ "আমি যার মাওলা আলীও তার মাওলা"

নবীজি হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইসলামের পরবর্তী চূড়ান্ত দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তাঁহার সেই মহাপবিত্র ভাষণে এই মোতাবেক সেথায় উপস্থিত অবস্থায় মাওলা আলী আঃকে প্রকাশ্যে অভিনন্দিত করেন আবু বকর, ওমর, ওসমান, মোয়াবিয়া ইত্যাদি প্রসিদ্ধ উমাইয়া বংশের নেতাগণ সুতরাং নবীজি হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর পর প্রকৃতভাবে হযরত মাওলা আলী আঃই প্রকৃত ইসলামের প্রথম ইমামত খলিফা হিসাবে আল্লাহ-রসূল কর্তৃক মনোনীত মাওলা এবং রাষ্ট্রের খলিফা বটে যাহা নবীজি সাঃ এর ইন্তেকালের পরপরই চরম স্বার্থবাদী, হীন চক্রান্তকারী, চিহ্নিত দখলদার উমাইয়া বাহিনীর নেতাদের স্বঘোষিত খেলাফত দখলের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের আড়ালে চাপা পড়িয়া যায় যেই অবৈধ ক্ষমতা দখলে সাধারণ জনগণের কোন প্রকার মনোনয়ন বা অনুমোদনেরও প্রয়োজন হয় নাই প্রকৃত ইসলামের সুরক্ষার জন্য মাওলা আলী আঃ চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে নিজের পরিবারের সকল স্বার্থ পরিত্যাগ করেন যাহা ইসলামের ইতিহাসে সকল মানুষের জন্যে চরম শিক্ষণীয়, অনুসরণীয় অনুকরণীয় বটে সেই সময় পবিত্র ইসলাম হইতে খারেজীরা ছিল ধর্মীয় ব্যাপারে অত্যন্ত গোঁড়া হিংসাত্মক মানসিকতার জাহেলিয়াত যুগের মনগড়া শাস্ত্র স্বার্থ ভিত্তিক শাসন কায়েমই ছিল তাহাদের মূল উদ্দেশ্য খলিফা মাওলা আলী আঃ এর প্রতি আনুগত্যকে তাহারা গুনাহর কাজ মনে করিতো এবং খেলাফত প্রথাকে ব্যক্তি পূজা মনে করিতো যাহার ফলে খলিফার প্রতি আনুগত্যশীল নর-নারী নির্বিশেষে সকলকেই তাহারা কতল করা কষ্ট দেওয়াকে অত্যন্ত পূণ্যের কাজ মনে করিতো ফলে খারেজীরা খোলাফায়ে রাশেদীন যুগের প্রথম হইতেই প্রকৃত ইসলাম ধর্মের বিরোধিতা করিয়া আসিতেছে

এই খারেজীদের চরম স্বার্থবাদী ভুল মতবাদের কারণে তাহাদের হাতে যুগে যুগে নির্মমভাবে শহীদ হইতে হয় ইসলামের আলোক প্রজ্জলিত অসংখ্য মহাপুরুষগণকে এমনি ভাবে খারেজীদের কর্তৃক মুসলিম জাহানের অসংখ্য সাহাবীগণকেও মর্মান্তিক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হইয়া শাহাদত বরণ করিতে হয়

খারেজীদের ঘৃণ্য চক্রান্ত পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আল্লাহ-রসূল কর্তৃক অভিশাপ প্রাপ্ত চির লানতী মোনাফেক মোয়াবিয়ার নির্দেশে আব্দুর রহমান নামীয় একজন খারেজী দাগী খুনি মুসলিম জাহানের খলিফা আমিরুল মোমেনীন হযরত মাওলা আলী আঃ কে নির্মমভাবে হত্যা করিবার অসৎ উদ্দেশ্যে কুফায় উপস্থিত হইয়া দি গ্রেট মসজিদে লুকাইয়া থাকে ১৯শে রমজান সুবহে সাদেকের সময় মাওলা আলী আঃ মসজিদে আসিয়া নামাজের জন্য জায়নামাজে দন্ডায়মান হন তিনি যখন সেজদা হইতে উঠিয়া বসেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মসজিদের এক পাশে বুকের নিচে ধারালো বিষ মাখা তরবারী লুকাইয়া উপুর অবস্থায় শুইয়া থাকা পাষন্ড খারেজী আব্দুর রহমান লাঃ আসিয়া মাওলা আলী আঃ এর মাথায় প্রচন্ড শক্তিতে আঘাত করে সেই আঘাতে মাওলা আলী আঃ জায়নামাজের উপর লুটাইয়া পড়েন ধীরে ধীরে মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়া ২১ রমজান তারিখে ৬৩ বছর বয়সে তিনি মুসলিম জাহানকে মহাশোকের মহাসমুদ্রে ভাসাইয়া ইহলোক ত্যাগ করেন।।

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদ "মাওলার শোক হোক সংযমের পাথেয়,

মাওলার প্রেম হোক বিবেকের শক্তি"

No comments

Powered by Blogger.