Header Ads

সেজদার প্রকার বেধ ও রাসূল কি কখনো সেজদা নিতো নাকি..???

 


সেজদার প্রকার বেধ রাসূল কি কখনো সেজদা নিতো নাকি..???


সেজদা প্রধানত প্রকারঃ

 সেজদায়ে তাবুদী বা ইবাদতের সিজদা

সেজদায়ে তাহিয়্যাহ বা তাজিমি সেজদা

ইবাদতের সেজদার কিছু শর্তাবলী আছেঃ

সেজদার নিয়ত থাকতে হবে

সেজদায় তছবী জপতে হবে

ওযু থাকতে হবে

কিবলামুখী হতে হবে ইত্যাদি

১নং, ৩নং, ৪নং শর্ত পূরণ হলেই সেজদা পরিপূর্ণতা পাবেসেই সেজদার মালিক একমাত্র আল্লাহআর তাজিমি সেজদা শুধুমাত্র আল্লাহর খাছ বান্দা তথা নবী, রাসূল, পয়গম্বর, আউলিয়া কেরামের জন্য এটি তাঁদের সম্মানার্থে প্রদান করা হয় যা দোষণীয় নয়কোরানে পাকে সুরা ইউসুফের ১০০ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, হযরত এয়াকুব (আঃ) তাঁর অন্যান্য পুত্ররা হযরত ইউছুফ আঃ কে সেজদা দিয়েছেনউল্লেখ্য এই সেজদা তাজিমি সেজদা

মেশকাত শরীফের ৩৯৬ পৃঃ ৮ম হিঃ সালে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, হযরত আবু খোজায়মা রঃ রাসুলে খোদা দঃ কে তাজিমী সেজদা করেছেন

আনিসুল আরওয়াহ কিতাবে বিভিন্ন হাদিস সূত্রে পাওয়া যায় হযরত ওমর রাঃ,হযরত আলী রাঃ, হযরত বেলাল রাঃ রাসুলে খোদা দঃ কে তাজিমি সেজদা করেছেনতাজিমি সেজদা যদি হারাম হত তাহলে হযরত ইউসুফ (আঃ) দয়াল রাসুল (সঃ) তাজিমি সেজদা গ্রহণ করতেন না বরং তারা বাঁধা প্রদান করতেন, কিন্তু তাঁরা তা গ্রহণ করেছেন

অতএব, এতেই প্রতীয়মান হয় তাজিমি সেজদার প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তবে হ্যাঁ এটা সম্পূর্ণ যার যার মনোগত ব্যাপারযার মন চায় সে করতে পারবে, যার মন চায়বে না সে করবে নাএটা করা ফরজ, ওয়াজীব, বা নাজায়েজ নয় বরং মুবাহ

কোরান হাদীসের আলোকে তাজিমী সেজদাঃ

সিজদাতুন শব্দের অর্থ মাথা জমিনে রাখা, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে কপালকে ইবাদতের নিয়তে আল্লাহর উদ্দেশ্যে

জমিনের উপর রাখা ( সূত্রঃ তাফসীরে কবির, তাফসীরে জালালাইন শরীফ ফিকাহে আকবর দ্রষ্টব্য)ইসলামী পরিভাষায় জমিনে মাথা ঠেকানোকে সেজদা বলে কারণ ইসলাম ধর্মে নামাজ বা ইবাদতে এটাই সেজদার রূপ কিন্তু তাজিমী সেজদায় কোন নিয়ত, ঔজু, বা কেবলা থাকে না তাই তাজিমি সেজদা কোন বেদাত কাজ নয়বেদাত তা যা নতুন সৃষ্টি কিন্তু দয়াল রাসূল (সঃ) হযরত ইউসুফ () এই সেজদা গ্রহন করেছেন

নিচে আরো   টি দলিল দেওয়া হলো....

. হযরত  সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত: "একবার দু'জন লোক হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসলোতারা হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর কাছে কিছু জানতে চাইলো, তখন তিঁনি সব বিষয় সমূহের জবাব দিলেন

*জবাব পাওয়ার পরের বিষয় সম্পর্কে সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ ﻗﺎﻝ ﻓﻘﺒﻼ ﻳﺪﻳﻪ ﺭﺟﻠﻴﻪ ﻗﺎﻻ ﻧﺸﻬﺪ ﺍﻧﻚ ﻧﺒﻲ

অর্থ: হযরত সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর তারা উভয়ে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার হাত মুবারক এবং কদম মুবারক চুম্বন করলো এবং বললো, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহ পাক (উঁনার) নবী

****দলিল****

. মিশকাত শরীফ -কিতাবুল ঈমান- বাবুল কাবায়ের ওয়া আলামাতুন নিফাক- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ- ৫১ নং হাদীস শরীফ

. তিরমীযি শরীফ

. আবু দাউদ শরীফ

. সুনানু নাসায়ী শরীফ

. তুহফাতুল আহওয়াযী

. সুনানুন নাসায়ী বি শরহিস জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি

. হযরত ওয়াজে ইবনে যারে উনার দাদা হতে বর্ননা করেন, আর তিনি ছিলেন আব্দুল কায়েস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত তিনি বলেন ,আমরা যখন মদীনা শরীফে আসতাম, তখন আমরা আমাদের সাওয়ারী হতে তাড়াতাড়ি অবতরন করে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার হাত এবং পা মুবারকে চুম্বন করতাম

****দলিল****

. আবু দাউদ শরীফ-কিতাবুস সালাম-২য় খন্ড-৭০৯পৃষ্ঠা- হাদীস ৫২২৫

. মিশকাত শরীফ- কিতাবুল আদব- মুছাফাহ মুয়ানাকা অধ্যায়- হাদীস নম্বর ৪৬৮৮

. ফতহুল বারী ১১ খন্ড- ৫৭ পৃষ্ঠা

. মিরকাত শরীফ ৭ম খন্ড ৮০ পৃষ্ঠা

. মুছান্নাফে আবী শায়বা

. বায়হাকী শরীফ

. কানযুল উম্মাল শরীফ

. তাফসীরে তাবারী

. বজলুল মাজহুদ ষ্ঠ খন্ড ৩২৮ পৃষ্ঠা

১০. মায়ালিমুস সুনান

১১. আশয়াতুল লুময়াত

১২. এলাউস সুনান ১৭ তম খন্ড ৪২৬ পৃষ্ঠা

No comments

Powered by Blogger.