Header Ads

তাওহীদ ও আল্লাহর একত্ববাদ অন্তরে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়

 

তাওহীদ (توحيد) অর্থ: একত্ববাদের স্বীকৃতিঅর্থাৎ আল্লাহর একক সত্তা, তাঁর একক উপাসনা, তাঁর গুণাবলিতে কারো অংশীদার না মানা একজন মুসলিমের ঈমানের ভিত্তি হলো এই তাওহীদ এটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে গেলে একজন মানুষের চিন্তা, কর্ম জীবনধারা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে পরিচালিত হয়

সকল পন্থায় মুরীদগণকে চিল্লা করিবার যে নির্দেশ দেনতাহা এই পরিবর্তনের_জন্য_দিয়া_থাকেন যাহাতে মুরীদ এই স্বীয় বদ অভ্যাস  কু স্বভাব হইতে পরিবর্তিত হইয়া যায় যখন মুরীদ এই চিল্লার মাধ্যমে নিজের পূর্বেকার স্বভাবচরিত্র  অভ্যাস পরিবর্তন করিয়া ফেলে তখন সে আর পূর্বের মানুষটি থাকে নাবরং সে অন্য মানুষে পরিণত হইয়া যায় প্রথমে তুমি যাহাকে দেখিয়াছ সে এখন আর পূর্বের অবস্থায় নাই এখন তো সে অন্য মানুষে পরিণত হইয়া গিয়াছে যখন স্বভাব,চরিত্র পরিবর্তন হইয়া গিয়াছেতখন মানুষটিও পরিবর্তন হইয়া গিয়াছে তাহার আসল  মূল ছিল তাহার স্বভাব,চরিত্র যখন তাহার সেই স্বভাব,চরিত্র স্বঅবস্থায় বহাল রহিল নাতখন সেও রহিল নাযদিও সে শারীরিক দিক দিয়া আগের অবস্থানে রহিয়াছে আর শারীরিক অবয়ব এমন একটি বিষয়যাহা কখনও ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না তাই নিশ্চিত ভাবে  ব্যক্তির মধ্যে একটি ভিন্ন ধরণের ঈমানী শক্তির সৃষ্টি হয়যাহাকে ঈমানের হাকীকত বলা হয় এবং যখন ঈমানের হাকীকত তথা ঈমানের মূল অন্তরে স্থান লাভকরিয়া লইলতখন একমাত্র তাওহীদ  আল্লাহর একত্ববাদ অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হইয়া গেল  বহুত্ববাদ অন্তর হইতে বাহির হইয়া গেল

. কুরআনের আলোকে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা

. আল্লাহ একমাত্র উপাস্য: "তোমার উপাস্য তো একমাত্র ইলাহ। তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তিনিই দয়াময়, পরম করুণাময়।" — (সুরা বাকারা, আয়াত ১৬৩)

. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করা: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এর নিচে যেকোনো গুনাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দেন।" — (সুরা নিসা, আয়াত ৪৮)

. সৃষ্টি পরিচালনায় একমাত্র আল্লাহ: "তিনি আকাশমণ্ডলী পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। যখন তিনি কোনো কাজের ফয়সালা করেন, তখন শুধু বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়।" — (সুরা বাকারা, আয়াত ১১৭)

. হাদীসের আলোকে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা

. তাওহীদের উপর ঈমানই জান্নাতের চাবি: রাসূলুল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবেলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"— (সহীহ বুখারী: ৬৪৪৩)

. তাওহীদ ছাড়া আমল কবুল হয় না: নবী বলেন: "আল্লাহ বলেন: আমি অংশীদারিত্ব থেকে মুক্ত। যে ব্যক্তি এমন আমল করে যার মধ্যে অন্য কাউকে আমার সাথে শরিক করা হয়, আমি তা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেই।"— (সহীহ মুসলিম: ২৯৮৫)

. তাওহীদ শিক্ষা ছিল প্রতিটি নবীর মিশন: রাসূলুল্লাহ বলেন: "আমি এবং আমার পূর্ববর্তী সকল নবীকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে: 'আল্লাহর ইবাদত কর এবং তার সাথে কিছু শরিক করো না।'"— (সহীহ বুখারী)

. অন্তরে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার উপায়

"যতক্ষণ তুমি নিজের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিবেততক্ষণ তোমার মধ্যে একাধিক্যের অনুভূতি বহাল থাকিবে আর যখন তোমার দৃষ্টি নিজের অস্তিত্ব হইতে দূর করিয়া দিবেতখন একক সত্ত্বার অস্তিত্বই বহাল থাকিবে

. আল-কুরআন হাদীস অধ্যয়ন:  নিয়মিত কুরআনের তাফসীর হাদীস পাঠ করলে আল্লাহর গুণাবলী শ্রেষ্ঠত্ব হৃদয়ে স্থান পায়

. নিয়মিত যিকির ইবাদত: যিকির, সালাত দোয়ার মাধ্যমে অন্তর আল্লাহর স্মরণে আলোকিত হয়

. তাওহীদবিরোধী শিরক থেকে দূরে থাকা:  তাবিজ, কুসংস্কার, কবিরাজি, গ্রহ-নক্ষত্র বিশ্বাস ইত্যাদি পরিহার করতে হবে

. আল্লাহর সৃষ্টিতে তাদাব্বুর: আকাশ, পৃথিবী, প্রাণী, জ্যোতিষ্কএই সবকিছুর মধ্যে আল্লাহর একত্ব এবং কুদরতের নিদর্শন রয়েছে। এগুলোর প্রতি মনোযোগ দিলে তাওহীদ অন্তরে বসে যায়

উপসংহার

তাওহীদ হলো ইসলামের ভিত্তি এবং সব আমলের মূল। এটি কেবল মুখের কথা নয়, বরং অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা। কুরআন হাদীস আমাদের তাওহীদ সম্পর্কে গভীরভাবে শিক্ষা দেয় এবং শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে। তাই প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো তাওহীদকে জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করাঅন্তরে, চিন্তায়, কাজে

আপনার অন্তরে যদি আল্লাহর একত্ববাদের আলো প্রবেশ করে, তাহলে আপনি সত্যিকার মুমিন হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ


No comments

Powered by Blogger.