আপনি কোন দলীয় ” মুুসলমান ”
পবিত্র কুর আনে আল্লাহ বলেন, "কুল ইনকুন্তুম তুহিব্বুনাল্লাহা ফাত্তা বিয়ুনী ইহবিব কুমুল্লাহ, ওয়াগ ফির লাকুম জুনুবাকুম ওয়াল্লাহু গফুরুর রহিম"। অর্থ হে নবি আপনি আপনার উম্মতদের কে জানাই দিন।যদি তারা আমি আল্লাহ কে ভালো বাসতে চায়, তাহলে যেনো তারা আপনার আনুগত্য করে।তাহলে আমি তাদের যাবতীয় পাপ কে ক্ষমা করে দিবো। এখানে দুইটা দিকের ইংগিত দিয়ে কথা বলেছেন আল্লাহ নিজেই। প্রথমত: আল্লাহ কে পেতে নবীজির আনুগত্য করা এবং দ্বিতীয়ত: যে জতই পাপ করুক নবিজির আনুগত্য যে করবে সে নিষ্পাপ।
এবার আমি যদি কিছু করি আর কিছু করলাম না। তাহলে কি হবে? কারন সব কথাতো আল্লাহর না।এমন কিছু অবান্তর প্রশ্ন আসতে পারে। তাই আল্লাহ তার ও উত্তর হিসাবে কুর আনে অন্য আয়াত নাজিল করে রেখেছেন। "ওয়ামা ইয়ান্তিকু আনিল হাওয়া ইন হুয়া ইল্লাহ ইয়াহয়ু ইউহা"। অর্থ আমার নবি আমার ওহি ছাড়া কিছুই বলেন্না। তাহলে বুঝা গেলো। নবীজির প্রতিটি কথা আল্লাহর বানি। যেটা পালন করা ফরজ। তরক করা কুফুরি।
১. ইসলামের প্রাথমিক ঐক্য
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় মুসলিমরা একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ হিসেবে ছিলেন। তখন মতপার্থক্য ছিল না। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর নেতৃত্বের প্রশ্ন থেকে মতবিরোধের শুরু হয় — এখান থেকেই মূলত শিয়া ও সুন্নি মতভেদ জন্ম নেয়।
২. সুন্নি মুসলমানরা (Ahlus Sunnah wal Jama'ah)
বিশ্বাস ও অবস্থান:
- রাসূল (সা.)-এর পরে খিলাফত হযরত আবু বকর (রাঃ) থেকেই শুরু হওয়া উচিত ছিল বলে তারা বিশ্বাস করেন।
- চার খলিফাকে (আবু বকর, উমর, উসমান, আলী) "খুলাফায়ে রাশেদীন" হিসেবে সম্মান করেন।
- সুন্নিরা মূলত চারটি মাযহাব অনুসরণ করে:
হানাফি
শাফেয়ি
মালিকি
হাম্বলি
উপ-ধারা:
- সালাফি / আহলে হাদিস: সরাসরি কুরআন ও হাদীসের ভিত্তিতে জীবন গড়ার কথা বলে, মাযহাব মানতে অনাগ্রহী।
- সুফি তরিকাগুলো (নকশবন্দি, চিশতিয়া, কাদরিয়া): আত্মশুদ্ধি ও তাওয়াজ্জুহর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে চায়।
- দেওবন্দি, ব্রেলভি, তাবলীগ, জামাতে ইসলামি — উপমহাদেশে জনপ্রিয় আন্দোলন ও দৃষ্টিভঙ্গি।
৩. শিয়া মুসলমানরা (Shia Islam)
বিশ্বাস ও অবস্থান:
- তারা মনে করেন, রাসূল (সা.)-এর পরে ইমাম আলী (আ.)-এর নেতৃত্বই ছিল আল্লাহর নির্দেশিত।
- শিয়া মুসলমানরা বারো ইমামকে মানেন (Twelve Imams doctrine) এবং তাঁদেরকে নির্দোষ ও আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত মানেন।
- তাঁরা বিশেষভাবে আহলুল বাইত (নবীর পরিবার)-কে সম্মানিত স্থান দেন এবং অনেক সাহাবীর কিছু কাজ সমালোচনার চোখে দেখেন।
উপ-ধারা:
- ইথনা আশারিয়া (Twelver Shia) – সংখ্যায় সর্বাধিক, ইরান, ইরাক, লেবানন প্রভৃতি দেশে বিস্তৃত।
- ইসমাইলি – আগা খানিরা এই ধারায় পড়েন।
- জায়দি – ইয়েমেনে প্রচলিত, কিছুটা সুন্নির কাছাকাছি।
৪. অন্যান্য দল বা গোষ্ঠী
খারেজি সম্প্রদায় ইসলামে প্রথম রাজনৈতিক বিচ্ছেদকারী দল হিসেবে পরিচিত। খারেজি সম্প্রদায়ের বিশ্বাসীগণ হযরত আলী (আ.) কে বিরোধিতা করে আসছিলো। তারপর মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে. তারা যুক্তিবাদী ও দর্শনপ্রিয় দল ছিল। এই মু’তাযিলা সম্প্রদায় আল্লাহর গুণাবলীতে নিরপেক্ষতা খুঁজতো। পরবর্তীতে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জন্ম হয়। এই সম্প্রদায়ের প্রধান ছিলেন মির্জা গুলাম আহাম্মদ। মির্জা গুলাম আহমদের অনুসারীদের প্রধান ধারার মুসলিমরা মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এর পর আবির্ভাব হয় সূফি আন্দোলন। সুফী আন্দোলনের অনুসারীগণ প্রেম ও তাযকিয়ার ভিত্তিতে আল্লাহর কাছাকাছি হওয়ার কিছু ধারা আবিষ্কার করে। এই সুফী সম্প্রদায়ে প্রায় সব মাজহাবে সূফিবাদ বিদ্যমান আছে।
ইসলামী দৃষ্টিতে "দলীয় মুসলমান" হওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য?
কুরআনের বাণী: "তোমরা যারা দ্বীনের মধ্যে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই।" (সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১৫৯)
হাদীস: "আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে, তার মধ্যে একটি দলই জান্নাতপ্রাপ্ত হবে।" (তিরমিজি শরীফ)
এই হাদীসকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক দলই নিজেদের সেই ‘নাজাতপ্রাপ্ত দল’ বলে দাবি করে থাকে — কিন্তু বাস্তবে এটি আল্লাহ ও রাসূলের জ্ঞানসাপেক্ষ বিষয়।
আপনি কাকে "মুসলমান" বলবেন?
ইসলামের মূল পরিচয়:
কুরআন ও হাদীসে বলা হয়েছে, একজন মুসলিম হতে হলে তাকে বিশ্বাস করতে হবে:
- আল্লাহর একত্ব
- রাসূল (সা.)-এর নবুওয়াত
- ফেরেশতা, কিতাব, কিয়ামত
- ইবাদতের মূলনীতি (শাহাদাহ, সালাত, সওম, হজ্জ, যাকাত)
- আহলে বায়াতের মহব্বতই হলো একজন মুসলমানের ঈমান
- এগুলো মানলে ব্যক্তিকে মুসলমান বলা হয়, দল বা মাজহাব যা-ই হোক না কেন।
আপনি কোন দলীয় "মুসলমান"?
বহুল প্রচারিত কথাটি হচ্ছে, অতশত বুঝি না ভাই , শীয়া – সুন্নি এই সব ক্যাঁচালে নাই ভাই , আমি একজন পাক্কা মুসলমান , ব্যস । এই সকল মুসলমন দাদা ও বোনদের প্রতি সালাম জানিয়ে –নিম্নে কিছু কথা বলতে চাচ্ছি. দয়া করে কথাগুলো নিয়ে একটু ভেবে দেখবেন কি? – শুধুই” মুসলমান” এ কথা বলাটাই কি যথেষ্ট? বিষয়টা কখনও এভাবে ভেবে দেখেছেন কি? পৃথিবীর যে কোনও মুসলিম বা অমুসলিম ব্যক্তি যদি আপনাকে এরকম প্রশ্ন করে যে, রাসুল পাক(সাঃ) এর পরিস্কার আদেশের পরেও যারা খাতা কলম দেয় নি, তারাও তো মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
রাসুল (সাঃ) এর দাফন, জানাজাতে অংশগ্রহন না করে যারা ক্ষমতার হালুয়া রুটি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত ছিলেন, তারাও তো মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
বনু সকীফার নেতারাও মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? খাতুনে জান্নাত নবী কন্যা হযরত ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) এর পবিত্র গৃহে অগ্নিসংযোগ এবং জ্বলন্ত দরজায় পা দিয়ে সজোরে লাথি মেরে মা জননী ফাতেমা (সাঃআঃ) কে যারা ওনার গর্ভস্থ সন্তানসহ হত্যা করেছিলেন, তারাও তো মুসলমান সাহাবী ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? নবী কন্যা যাহরা (সাঃআঃ) এর পৈত্রিক সম্পত্তি বাগে ফাদাক যারা অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করল, তারাও তো মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
সিফফীনের যুদ্বে উভয় পক্ষই মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? জঙ্গে জামালের যুদ্ধে উভয় পক্ষই মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? কারবালাতে উভয় পক্ষই মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? কারবালার নির্মম হত্যাকান্ডকে সঠিক বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন সেই যুগের অনেক মুফফাসসীর ও হাফেজ এ কোরআন, বা এখনো দিচ্ছে! আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
হারুনুর ও মামুনুর রশীদরাও মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? বনু উমাইয়া আর বনু আব্বাসীয়া প্রোডাকশন ফ্যাক্টরী থেকে সৃষ্ট সে যুগের অনেক ভাড়াটে ইমাম, শায়েখ, হাদিস লেখকও মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
রাসুল (সাঃ) এর নাতি জান্নাতের সর্দার হযরত হাসান (আঃ) এর জানাজায় যারা অজস্র তীর মেরে রক্তাক্ত করেছিল তারাও তো মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
আবু সুফিয়ান, মুয়াবিয়া আর এযীদও মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান? বিখ্যাত পতিতা সর্দারনী হিন্দার জারজ পুত্র জনাব মুয়াবীয়া নাকি কাতেবে ওহী মার্কা মুসলমান ছিলেন, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
ইদানীং ঈয়যীদকে রাঃ আনহু বলছে একদল মুসলমান, আপনি তাহলে কোন দলীয় মুসলমান?
সকলেই কিন্ত নিজেদেরকে উম্মতে মোহাম্মাদী (সাঃ) বলেই দাবী করে । জনাব ইবলীশও কিন্ত নিজেকে আল্লাহর বান্দা বলে দাবী করে।
উপসংহার:
কুরআনে আল্লাহ নিজেই সুরাই আশ শুরা ২৩ নাম্বার আয়াতে বলে দিলেন, "কুল লা আস আলুকুম আলাইহা আজরান ইল্লা মাওয়াদ্দাতা ফিল কুরবা"। অর্থ,হে নবী (সাঃ) আপনি আপনার উম্মতদের কে বলেদিন, যে আপনার রিসালাতের বিনিময়ে আপনি কিছুই চান না। শুধু আপনার আহালে বাইতের প্রেম ছাড়া। এখানে স্পষ্ট উল্যেখ্য আহালে বায়াতের প্রতি ভালোবাসা ফরজ। আহলে বায়াতের মহব্বত ছাড়া কেহই মুসলমান হিসেবে দাবি করতে পারে না।
.jpg)
No comments