আল্লাহ হযরত আদম (আঃ)- এর ললাটে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর নূর স্থাপন করলেন।
হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির পর আদম হতে পয়দা হলো মা হাওয়া। হযরত আদম (আঃ) এর অজুদ সৃষ্টি করে চল্লিশ দিন শুকানো হয়েছিল। তারপর আদম (আঃ) এর দেহে রূহ নাযিল হলো (নাফাকতু ফিহি মির রূহী)।
প্রথমে আদম (আঃ) এর দেহে অন্ধকার দেখে রূহ প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ললাটে নূরে মোহাম্মদী স্থাপন করা হয় এবং তাতে দেহের অন্ধকার বিদুরিত হয়। তখনই আদম মানব রূপ ধারণ করে এবং হাঁচি দিয়ে “আলহামদুলিল্লাহ" পাঠ করেন। জবাবে আল্লাহপাক “ইয়ারহামুকাল্লাহ”বলেন। এরপর ফেরেশতাগণ আদমকে সেজদা করেন এবং আজাজিল সেজদা দিতে অস্বীকার করে কাফের শয়তানে পরিণত হয়। এ সেজদা মূলতঃ আল্লাহর জন্যই ছিল এবং আদম আল্লাহ পৃথক ছিল না। আর আদম যেহেতু চিরঞ্জীব বা লা মউতে স্থিত বিধায় আদমের দিকে সেজদা মানে আল্লাহকেই সেজদা। ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য করণীয় দিক নির্দেশনা হিসাবে আদমকে সেজদা করানো হলো ফেরেশতা দিয়ে বিধায় এখন তারাই নাজাত পন্থী দল যারা আদমকে সেজদা করবে, অন্যেরা শয়তান মরদুদের দল। তবে আদমকে সেজদা করতে হলে আদম চিনে নিয়ে তাকে ফিল আরদে খলিফা হিসাবে স্বীকার করে নিতে হবে। আর আদম না চিনলে আল্লাহকেও চিনা যাবে না। আদম ব্যতীত আল্লাহকে যারা পৃথক জ্ঞান করে কাল্পনিক ভাবে সেজদা উপাসনা করে এরা শেরেকীতে লিপ্ত, কারণ, আদম আল্লাহর সীরাত ও সুরাত নিয়ে স্থিত আছেন এবং এ কামেল ইনছানই আল্লাহর গোপন রহস্য (আল ইনছানু সিররী) বিধায় আদমকে সেজদা করলে তা মূলতঃ আল্লাহকেই করা হলো।
“মৌলুদে বরজিঞ্জি" নামক বিখ্যাত কিতাবে আল্লামা শরীফ বরজিঞ্জি (রহঃ) লিখেছেন : আল্লাহপাক যখন হাকিকতে মোহাম্মদীকে প্রকাশ করার ইচ্ছা করলেন তখন হযরত আদম (আঃ)-কে পয়দা করলেন এবং তাঁর ললাটে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর নূর স্থাপন করলেন। “আহসানুল মাওয়ায়েজ" কিতাবে বর্ণিত আছে যে, একদিন আল্লাহপাকের কাছে হযরত আদম (আঃ) প্রার্থনা করলেন নূরে মোহাম্মদী দর্শন করার জন্য। তখন আল্লাহপাক নূরে মোহাম্মদীকে আদম (আঃ) এর দু"হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীতে স্বচ্ছ আয়নার ন্যায় বিকশিত করলেন। ইহা দেখে আদম (আঃ) উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ চুম্বন করতঃ উহা চোখে লাগালেন এবং নবীকে দেখে তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন। অতঃপর এ সুন্নত তাঁর বংশধরের মধ্যে প্রচলিত হয়ে গেল।
এ কথাটি তাফসীরে রুহুল
বয়ানে বর্ণিত আছে।
তাই আযান শুনে বা
নবী (সাঃ) এর নাম
শুনে অঙ্গুলী চুম্বন করা হলো
সুন্নত। এ
সুন্নত যারা পলন করেন
আল্লাহপাক তাদের সমুদয় গুণাহ
মাফ করে দিবেন।
নিবেদকঃ
শাহ সুফি আহমেদ হোসাইন (বেলায়েতের পাগলা)

No comments