কদমবুসি ও হাতবুসি ১০০% জায়েজ
বাংলা সংস্কৃতিতে
বড়দের প্রতি
সম্মান প্রদর্শনের
অংশ হিসেবে
কদমবুসি (পা
ছুঁয়ে সালাম)
ও হাতবুসি
(হাত চুম্বন)
একটি প্রচলিত
রীতি। অনেকেই
জানতে চান:
ইসলামী শরীয়তের
দৃষ্টিতে এগুলো
জায়েজ কি
না?
ওহাবীদের মতে যদি এরুপ হয় তাহলে লক্ষ করুন- আমরা জুতা পড়ি কিন্তু জুতার ফিতা বাধার সময় আমাদের মাথা নত হয়ে যাচ্ছে তাহলে কি জুতা পড়াও শিরক..? - রাস্তা হাটতে আপনার হাত থেকে কোন কিছু পড়ে গেল ধরুন কলম এখন কলমকে উঠাতে আপনার মাথা নত হয়ে যাচ্ছে তাহলে এটাও কি শিরক..?-
পবিত্র বস্তুকে চুমু দেয়া জায়েয। কুরআন করীম ইরশাদ ফরমান- ওহে বনী ঈসরাইল বায়তুল মুকাদ্দিসের দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর। এবং বল আমাদের গুনাহ মাফ করা হোক। এ আয়াত থেকে অবগত হওয়া গেল যে আম্বিয়া কিরামের আরামগাহ বায়তুল মুকাদ্দিসকে সম্মান করানো হলো অথর্ৎ বনী ঈসরাইলকে ওখানে নতশিরে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ আয়াত দ্বারা এটাও বোঝা গেল যে পবিত্র স্থান সমূহে তওবা তাড়াতাড়ি কবুল হয়।
আমরা এখানে
কুরআন ও
সহীহ হাদীসের
আলোকে এ
বিষয়ে বিশ্লেষণ
করবো।
কুরআনের
দৃষ্টিতে
কুরআনে
সরাসরি কদমবুসি
বা হাতবুসির
উল্লেখ নেই।
তবে সম্মান
প্রদর্শন, বিনয়
ও শ্রদ্ধাশীল
আচরণের গুরুত্বের
বিষয়ে নির্দেশ
রয়েছে: وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ
الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ “তুমি দয়াপূর্ণ
বিনয়ের সাথে
তোমার পিতামাতার
প্রতি আচরণ
কর।” — (সূরা
বনী ইসরাঈল,
১৭:২৪)
এ আয়াতে
বিনয়ের আদেশ
থাকলেও, এতে
কদমবুসির অনুমোদন
নেই।
হাদীসের
আলোকে বিশ্লেষণ
হাদীসে
হাত চুম্বনের
অনুমোদন : قَبَّلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ يَدَ رَسُولِ
اللهِ ﷺ "জায়েদ
ইবনে সাবিত
(রাঃ) রাসূল
(সা.)-এর
হাত চুম্বন
করেন।" — (ইবনু
মাজাহ, হাদীস
٣٦٦٢)এটি দেখায়
যে ভালোবাসা
বা সম্মানের
নিদর্শন হিসেবে
হাত চুম্বন
কখনও কখনও
জায়েজ হতে
পারে।
কদমবুসি
সম্পর্কে সতর্কতা
: কদমবুসির বিষয়ে
রাসূল (সা.)
বলেন: لَوْ كُنْتُ آمُرُ أَحَدًا أَنْ
يَسْجُدَ لِأَحَدٍ، لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا “আমি
যদি কাউকে
কাউকে সিজদা
করার আদেশ
দিতাম, তবে
স্ত্রীকে তার
স্বামীর প্রতি
সিজদা করতে
বলতাম।”
— (তিরমিযী: ১১৫৯)
এ হাদীস
থেকে বোঝা
যায়, শ্রদ্ধাবশত
সিজদা করা
নিষিদ্ধ। ইসলামী
শরীয়তে ‘পা
ছুঁয়ে সালাম’
এমন আচরণ
যা সিজদার
কাছাকাছি হয়
এবং তা
অহেতুক সম্মান
প্রদর্শনের নামে
অনুচিত।
মিশ্কাত শরীফের اَلْمُصَافَحَةِ
وَالْمُعَانَقَةِ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে- وَعَنْ ذِرَاعٍ
وَّكَانَ فِىْ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِيْنَةَ
فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَّوَاحِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه‘ হযরত যেরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যিনি আব্দুল কায়সের প্রতিনিধিভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন- যখন আমরা মদিনা মনোয়ারায় আসলাম তখন আমরা নিজ নিজ বাহন থেকে তাড়াতাড়ি অবতরণ করতে লাগলাম। অতঃপর আমরা হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র হাত-পা চুমু দিয়েছিলাম।
মিশ্কাত শরীফের اَلْكَبَائِرُ
وَعَلَامَاْتِ النِّفَاقِ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ছিফওয়ান ইবনে আস্সাল, থেকে বর্ণিত আছে فَتَقَبَّلَ يَدَيْهِ
وَرِجْلَيْهِ (অতঃপর হুযুর আলাইহিস সালামের হাত-পায় চুমু দেন।) মিশ্কাত শরীফে مَا يُقَالَ عِنْدَ مَنْ
حَضَرَهُ الْمَوْتِ শীর্ষক অধ্যায়ে তিরমিযী ও আবু দাউদ শরীফের বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ
قَبَّلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُثْمَانَ ابْنُ
مَطْعُوْنٍ وَهُوَ مَيِّتٌ অর্থাৎ হুযুর আলাইহিস সালাম হযরত উছমান ইবনে মাতউনকে মৃতবস্থায় চুমু দিয়েছেন।
ওলামায়ে
কেরামের মতামত
- শাফেয়ী
ও হানাফী
মাযহাব:
যদি হাত
চুম্বন বা
কদমবুসি ভালোবাসা
বা ইজ্জত
প্রকাশের জন্য
হয়, আর
তা সিজদার
মতো না
হয়, তাহলে
তা মাকরূহ
(অপ্রশংসনীয়)
হলেও হারাম
নয়।
- সালাফদের
মতে:
অহেতুক তা
নিয়মিত করা
থেকে বিরত
থাকতে হবে।
কেননা এটা
অহংকার জন্ম
দিতে পারে।
·
ইমাম আহমদ ইব্নে হাম্বল (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে তার কাছে কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল- হুযূর আলাইহিস সাললামের মিম্বর বা পবিত্র কবর মুবারকে চুমু দেয়াটা কেমন? তিনি এর উত্তরে বলেছিলেন, কোন ক্ষতি নেই।
·
মক্কা শরীফের শাফেঈ উলামায়ে কিরামের অন্যতম হযরত ইবনে আবিস সিন্ফ ইয়ামানী থেকে বর্ণিত আছে- কুরআন করীম ও হাদীছ শরীফের পাতাসমূহ এবং বুযুর্গানে দ্বীনের কবরসমূহ চুমু দেয়া জায়েয। প্রখ্যাত ‘তুশেখ’ গ্রন্থে আল্লামা জালাল উদ্দিন সয়ুতী (রহঃ) বলেছেন- اِسْتَنْبَطَ بَعْضُ
الْعَارِفِيْنَ مِنْ تَقُبِيْلِ الْحَجَرِ الْاَسْوَدِ تَقْبِيْلَ قُبُورِ
الصَّالِحِيْنَ হাজর আসওয়াদের চুম্বন থেকে কতেক আরেফীন বুযুর্গানে কিরামের মাযারে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণ করেছেন।
উপসংহার
উপরোক্ত হাদীছে, মুহাদ্দিছীন ও উলামায়ে কিরামের ইবারত থেকে প্রমাণিত হলো যে বুযুর্গানে দ্বীনের হাত, পা, ওনাদের পোশাক, জুতা, চুল মোট কথা সব কিছু পবিত্র বস্তু; অনুরূপ কাবা শরীফ, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের পাতা সমূহের উপর চুম্বন জায়েয ও বরকতময়। এমনকি বুযুর্গানে দ্বীনের চুল, পোশাক ও অন্যান্য পবিত্র বস্তুর সম্মান করা এবং যুদ্ধকালীন ও অন্যান্য মুসিবতের সময় এগুলো থেকে সাহায্য লাভ করা কুরআন করীম থেকে প্রমাণিত আছে।

No comments