আপন পীরকে বা মোর্শেদ‘কে বাবা বলে কেন
ইসলামে
"পীর"
বা
"মুর্শিদ" শব্দগুলো মূলত
এমন
এক
পথপ্রদর্শককে বোঝায়
যিনি
আত্মশুদ্ধি, ইলম
ও
আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার
পথে
মুরিদ
(শিষ্য)-কে সহায়তা করেন।
অনেক
সময়
মুর্শিদকে "বাবা" বলে সম্বোধন করা
হয়।
এই
সম্বোধনের মূল
রয়েছে
কুরআন
ও
হাদিসে
থাকা
আত্মিক
সম্পর্কের ধারণায়।
কুরআনের আলোকে: “আল্লাহ
মোমিনদের অভিভাবক।” — (সূরা আল-বাকারা: ২৫৭)
এই
আয়াতে
"ওলি"
বা
অভিভাবক শব্দটি
ব্যবহার করা
হয়েছে,
যা
নির্দেশ করে—
একজনকে
সঠিক
পথে
পরিচালনার দায়িত্ব যার
ওপর,
তিনিই
তার
আধ্যাত্মিক অভিভাবক। পীর
বা
মুর্শিদও তাঁর
মুরিদদের আত্মিক
উন্নতির দায়িত্ব নেন।
হাদিসের আলোকে: "আমি তোমাদের
জন্য পিতার মত, আমি তোমাদের শিক্ষা দিই।" — (আবু দাউদ: হাদিস
৮/১)
এই
হাদিসে
রাসূল
(ﷺ)
নিজেকে
পিতার
মতো
বলেছেন,
অর্থাৎ
শিক্ষাদাতা, দিকনির্দেশক ও
কল্যাণকামী হিসেবে। পীর
বা
মুর্শিদ হচ্ছেন
সেই
ধারার
উত্তরসূরি যাঁরা
নবীদের
রেখে
যাওয়া
শিক্ষার উত্তরাধিকার বহন
করেন।
তাই
তাঁদের
‘রুহানি
বাবা’
বলা
হয়।
আধ্যাত্মিক সম্পর্ক:
একজন
পীর
বা
মুর্শিদের সঙ্গে
মুরিদের সম্পর্ক শুধুমাত্র শিক্ষকের মতো
নয়,
বরং
একজন
আধ্যাত্মিক পিতার
মতো।
যেমন:
- বাবা সন্তানকে
লালন-পালন করেন,
- তেমনি মুর্শিদ আত্মার পরিশুদ্ধি
ও
আল্লাহর দিকে মনোনিবেশে সাহায্য করেন।
এই
কারণে
তাঁকে
"বাবা"
বলা
হচ্ছে
সম্মানের সাথে,
ঠিক
যেমন
ধর্মীয় শিক্ষককে "হুজুর", "উস্তাদ" বা "সায়্যিদ" বলা হয়।
জেনে রাখা দরকার যে, বাবা বা পিতা মোট আট শ্রেণীরঃ এই আট শ্রেণী পিতাকেই “বাবা’ বলে সম্বোধন করা জায়েয আর তা কুরআন হাদিস মোতাবেক প্রমানিত। নিচে লক্ষ্য করুনঃ
আটশ্রেণীর পিতাঃ যথাঃ
১।(আবুল হাকিকাত) তথা হাকিকী পিতা। তিনি হযরত রাসূলে পাক (সাঃ)।
২। শরিয়তের পিতা তিনি আব্দুল গাফ্ফার আর্থাৎ নূহ (আঃ) (তাফছিরে রুহুল বয়ান)।
৩। (আবু লিতাহছিলুল মারেফাত) তথা মারেফাত হাছিলের পিতা। তিনি হজরত আলী (রাঃ)।
৪। আবুত ত্বারিকাত তথা ত্বরিকতের পিতা। তিনি আপন মোর্শেদ বা আপন পীর।
৫। (আবুল বাশার) তথা মানব জাতির পিতা। তিনি হযরত আদম (আঃ)।
৬।(আবু লি মুছলীম মিল্লাত) তথা মুসলীম জাতির পিতা। তিনি হজরত ইব্রাহিম (আঃ)।
৭। (আবুল ওয়ালাদ) তথা জন্মদাতা পিতা। নিজের জন্মদাতাই এই শ্রেণীর পিতা,
৮। (আবু লিত তাজিম ওয়া তাক্বরীম) তথা সম্মানে ও তাজিম কিংবা স্নেহের কারণে কাউকে আব্বু বা বাবা বলা। এই শ্রেণীতেই পরেন শশুর মশাই।
সতর্কতা:
'বাবা' বলার
অর্থ
এই
নয়
যে
তাঁকে
আল্লাহ
বা
রাসূলের সমমর্যাদায় উঠিয়ে
দেওয়া
হচ্ছে।
এটি
শুধুমাত্র একটি
শ্রদ্ধাসূচক আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতিফলন। তবে
কোনো
পীর
বা
মুর্শিদের এমন
মর্যাদা দেওয়া
যাবে
না,
যাতে
তাওহীদের ভিত্তি
নষ্ট
হয়।
একজন মুর্শিদকে "বাবা" বলা ইসলামী আধ্যাত্মিকতায় একটি স্বীকৃত প্রথা, যার ভিত্তি কুরআন ও হাদিসে রয়েছে। তবে এর সীমা ও সম্মান বজায় রেখে, শিরক ও গুলতির বাইরে থেকেই সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।
.jpg)
No comments